কুমিল্লায় সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) রাতে নিহত ফারিহার বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগ এনে ৫ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।
মামলায় ফারিহার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়, শ্বশুর আবদুর রহিম, শাশুড়ি আফরোজা বেগম ও ননদ রীমা আক্তার ও ননদের স্বামী জাকারিয়াসহ ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ অভিযোগটি আত্মহত্যার প্ররোচনার সংশ্লিষ্ট ধারায় রেকর্ড করেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফারিহার বাবার অভিযোগ আপাতত আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত আসলে তখন বিধি মোতাবেক মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে ফারিহার স্বামীসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে ঘটনার রহস্যের জট খুলবে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিয়া ও হৃদয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক হয়। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আবদুর রহিমের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এতে ফারিয়া তার স্কুলশিক্ষক বাবার নিকট থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় পরিবারে আরও কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
ফারিয়ার বাবা জানান, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে আসামিরা হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ৯৯৯ এ কল করে পুলিশ ডেকে আনে। থানায় মরদেহ নেয়ার পর আমাদের জানানো হয় ফারিয়া আত্মহত্যা করেছে। তিনি মেয়ে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্রি (মুন্সেফবাড়ি) এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফরিহার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ফারিহা কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















