ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একের পর এক পদত্যাগে চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজের দল লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমবর্তমান চাপের মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের পদত্যাগে সরকারের ভেতর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবশেষ কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।

 

গত কয়েক দিনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেস ফিলিপস, জুবির আহমেদ, অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্স এবং মিয়াট্টা ফাহনবুলে। পাশাপাশি একদিনেই ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারীও পদত্যাগ করেন। যদিও শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা থামেনি।

 

একই সময়ে বেশ কয়েকজন এমপি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন। তবে দলের একটি বড় অংশ (১৫০ জনেরও বেশি এমপি) এখনও স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় নয়।

 

দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা জোরাল হলেও এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেননি। সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রার্থীদের তালিকায় ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে বার্নহামের ক্ষেত্রে এমপি না হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হতে পারে।

 

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ক্ষতি এই রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ। এ নির্বাচনে ইংল্যান্ডে দলটি ১,১০০টির বেশি কাউন্সিল আসন হারায়। পাশাপাশি ওয়েলসে দীর্ঘ ২৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং স্কটল্যান্ডে রিফর্ম পার্টির কাছে পিছিয়ে পড়ে তারা।

 

এই ফলাফলের পর থেকেই দলের ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

 

অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে অ্যাঞ্জেলা রেইনার দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা কর-সংক্রান্ত অভিযোগে কর্তৃপক্ষ তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দলীয় এমপিদের সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই শুরু হলে তা সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে স্ট্রিটিং ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি শিগগিরই নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ আনতে পারেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

একের পর এক পদত্যাগে চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৩৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজের দল লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমবর্তমান চাপের মুখে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের পদত্যাগে সরকারের ভেতর অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবশেষ কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।

 

গত কয়েক দিনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেস ফিলিপস, জুবির আহমেদ, অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্স এবং মিয়াট্টা ফাহনবুলে। পাশাপাশি একদিনেই ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারীও পদত্যাগ করেন। যদিও শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা থামেনি।

 

একই সময়ে বেশ কয়েকজন এমপি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন। তবে দলের একটি বড় অংশ (১৫০ জনেরও বেশি এমপি) এখনও স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় নয়।

 

দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা জোরাল হলেও এখনো কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেননি। সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রার্থীদের তালিকায় ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে বার্নহামের ক্ষেত্রে এমপি না হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হতে পারে।

 

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ক্ষতি এই রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ। এ নির্বাচনে ইংল্যান্ডে দলটি ১,১০০টির বেশি কাউন্সিল আসন হারায়। পাশাপাশি ওয়েলসে দীর্ঘ ২৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং স্কটল্যান্ডে রিফর্ম পার্টির কাছে পিছিয়ে পড়ে তারা।

 

এই ফলাফলের পর থেকেই দলের ভেতরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

 

অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে অ্যাঞ্জেলা রেইনার দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা কর-সংক্রান্ত অভিযোগে কর্তৃপক্ষ তাকে অব্যাহতি দিয়েছে।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দলীয় এমপিদের সতর্ক করে বলেছেন, নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই শুরু হলে তা সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে স্ট্রিটিং ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি শিগগিরই নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ আনতে পারেন।