নাচ-গানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গায় এক নারীর মরদেহ দাফনে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কয়েক ঘণ্টা দাফন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে মহল্লাবাসীর সমঝোতায় রাতে দাফন সম্পন্ন হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারীর মরদেহ এলাকায় পৌঁছানোর পর দাফনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের আপত্তির কারণে দাফন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে পড়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী। তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ নিজ বাড়ি দৌলতদিয়াড় এলাকায় আনা হয়।
তবে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্থানীয়দের একটি অংশ দাফনে আপত্তি তোলে। তাদের দাবি, ওই নারী ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে দাফনে আপত্তি জানান কিছু বাসিন্দা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। পরে মহল্লাবাসীর সমঝোতায় রাত ১০টার দিকে ওই নারীর দাফন সম্পন্ন হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় তার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকূপার এক ব্যক্তির সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















