ঢাকা , শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘পাত্তাই পাচ্ছেন না ট্রাম্প’, ইউরেনিয়াম নিয়ে মোজতবা খামেনির কঠোর বার্তা রোববারের মধ্যে রামিসা হত্যার চার্জশিট জমা দেবে পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান কারারক্ষীর রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে নেওয়া হলো থানায়, গাড়িতে আগুন জনতার শিশু রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ, যান চলাচল বন্ধ এবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাকস্বাধীনতা হরণ করল শুভেন্দুর সরকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী কনটেন্ট ক্রিয়েটর রজার এলিয়টের মর্মান্তিক মৃত্যু পল্লবীতে শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পল্লবীতে শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে রাতে শিশুটির বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে সরকারপ্রধান পল্লবীতে রামিসার বাসায় পৌঁছান।

 

 

এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

 

 

 

তার সঙ্গে এ সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষ করেই তিনি সরাসরি শিশু রামিসার বাসায় যান।

 

 

এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো দেশ ক্ষোভে ফুঁসছে। নৃশংস এই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠেছে। বর্বরোচিত এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানা ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া রাতে কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

 

 

এর মধ্যে নোয়াখালীতে জড়িতদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিশু রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরেও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রাজধানীতেও এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। সমাবেশ থেকে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান।

 

গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। আদালতকে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার রামিসাকে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময় রামিসার মা নিজের সন্তানের খোঁজে সোহেলদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে।

 

 

জবানবন্দিতে সোহেল আরও জানায়, এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। একই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি বাথরুম থেকে শোয়ার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং পুরো ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। অপরাধ সংঘটনের আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল জানিয়ে সোহেল দাবি করে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

 

 

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ অভিযুক্তকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে পুলিশের অপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পাত্তাই পাচ্ছেন না ট্রাম্প’, ইউরেনিয়াম নিয়ে মোজতবা খামেনির কঠোর বার্তা

পল্লবীতে শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ১০:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

 

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে রাতে শিশুটির বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে সরকারপ্রধান পল্লবীতে রামিসার বাসায় পৌঁছান।

 

 

এ সময় তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

 

 

 

তার সঙ্গে এ সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষ করেই তিনি সরাসরি শিশু রামিসার বাসায় যান।

 

 

এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো দেশ ক্ষোভে ফুঁসছে। নৃশংস এই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠেছে। বর্বরোচিত এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানা ঘেরাও করেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া রাতে কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন জেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

 

 

এর মধ্যে নোয়াখালীতে জড়িতদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিশু রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরেও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রাজধানীতেও এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। সমাবেশ থেকে বক্তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান।

 

গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। আদালতকে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার রামিসাকে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময় রামিসার মা নিজের সন্তানের খোঁজে সোহেলদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে।

 

 

জবানবন্দিতে সোহেল আরও জানায়, এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। একই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি বাথরুম থেকে শোয়ার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং পুরো ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। অপরাধ সংঘটনের আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল জানিয়ে সোহেল দাবি করে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

 

 

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ অভিযুক্তকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 

এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে পুলিশের অপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।