ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামি সোহেলের বীর্যের উপস্থিতি ডিএনএ রিপোর্টে শনাক্ত হয়নি: আইনজীবী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

এদিন আদালতে হাজির করার সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে দাবি করেন, তিনি একা দায়ী নন। তিনি বলেন, “সব দোষ ডলারের। ধর্ষণও করেছে ডলার, হত্যাও করেছে ডলার।” তবে ‘ডলার’ নামে যাকে তিনি অভিযুক্ত করছেন, তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি মিরপুর-১১ এলাকার একজন ধনী ব্যক্তি।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তে ‘ডলার’ নামে উল্লেখিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, এটি তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

অন্যদিকে সরকার নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় সোহেল রানার বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আসামিরা অভিযোগ অস্বীকার করায় আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তদন্তে হত্যার আগে তাকে ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি সোহেলের বীর্যের উপস্থিতি ডিএনএ রিপোর্টে শনাক্ত হয়নি: আইনজীবী

আপডেট সময় ০৬:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

এদিন আদালতে হাজির করার সময় আসামি সোহেল রানা সাংবাদিকদের উদ্দেশে দাবি করেন, তিনি একা দায়ী নন। তিনি বলেন, “সব দোষ ডলারের। ধর্ষণও করেছে ডলার, হত্যাও করেছে ডলার।” তবে ‘ডলার’ নামে যাকে তিনি অভিযুক্ত করছেন, তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি মিরপুর-১১ এলাকার একজন ধনী ব্যক্তি।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তে ‘ডলার’ নামে উল্লেখিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, এটি তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

অন্যদিকে সরকার নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় সোহেল রানার বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আসামিরা অভিযোগ অস্বীকার করায় আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তদন্তে হত্যার আগে তাকে ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।