কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে লিওনেল মেসির সেই ছবিটি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে পূর্ণতা পেয়েছিল মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারও।
এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ২০২৬ বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা মেসি। কোচ লিওনেল স্কালোনির দলে রয়েছে ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ১৭ ফুটবলার, সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়। ফলে শিরোপা ধরে রাখার মতো ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও গভীরতা—সবই রয়েছে বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, ১৯৬২ সালের পর প্রথমবারের মতো টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কোনো দলের সামনে। এর আগে ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনার সামনে সেই সুযোগ এসেছিল। কিন্তু ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে দিয়েগো ম্যারাডোনার দল ইতিহাস গড়তে পারেনি। পরবর্তীতে ব্রাজিল ও ফ্রান্সও একই সুযোগ পেলেও শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়েছে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি প্রথম এই অর্জন করে। এরপর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে পেলে, গারিঞ্চাদের ব্রাজিল একই কীর্তি পুনরাবৃত্তি করে। তারপর কেটে গেছে ছয় দশকেরও বেশি সময়, কিন্তু আর কোনো দল এই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তাহলে কি এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাবে আর্জেন্টিনা?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে আর্জেন্টিনার পক্ষে কথা বলছে। প্রথমত, বিশ্বকাপজয়ী কোচ এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একটি বড় অংশ এখনো দলের সঙ্গে রয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্কালোনির অধীনে গড়ে ওঠা দলটির ভেতরের ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা এবং ইতিবাচক ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি বর্তমানে বিশ্বের সেরা দলগুলোর অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের সাম্প্রতিক প্রবণতাও একই বার্তা দেয়। শুধু তারকা খেলোয়াড় নয়, বরং দলীয় সমন্বয়, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই এখন সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলের সাফল্যে এই বিষয়টি বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
আর্জেন্টিনার বর্তমান দলটিও ঠিক সেই পথেই এগোচ্ছে। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে তারা নিজেদের একটি সুসংগঠিত ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ব্যক্তিনির্ভরতার চেয়ে দলীয় কাঠামোকে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি এখন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সম্পদ।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে আর্জেন্টিনাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞতা, প্রতিভা, কোচিং, দলীয় ঐক্য এবং বিজয়ী মানসিকতা—সব দিক থেকেই তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
ইতিহাস অবশ্য কখনো সহজে ধরা দেয় না। তবে যদি বর্তমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং দলের ঐক্য অটুট থাকে, তাহলে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও আকাশি-সাদা জার্সির উল্লাস দেখা যেতে পারে। আর সেক্ষেত্রে ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি ও তার আর্জেন্টিনা।

ডেস্ক রিপোর্ট 























