সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন এক পোস্ট লিখে আলোচনায় এসেছেন হাসনাত নামে এক তরুণ। নিজের এলাকার এক নাপিত ‘কৃষ্ণদা’কে ঘিরে লেখা দীর্ঘ সেই স্ট্যাটাস ইতোমধ্যেই নেটিজেনদের হৃদয় ছুঁয়েছে। পোস্টটিতে তিনি তুলে ধরেছেন এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ মানবিকতা, মায়া আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের গল্প।
পোস্টে হাসনাত জানান, কুমিল্লার দেবিদ্বারের কৃষ্ণদা পেশায় একজন নাপিত হলেও এলাকাবাসীর কাছে তিনি যেন এক চলমান লোকাল এনসাইক্লোপিডিয়া। তার বাবা যেমন কৃষ্ণদার কাছে চুল কাটতেন, এখন তিনিও কাটেন। ভবিষ্যতে নিজের ছেলেকেও একই চেয়ারে বসিয়ে চুল কাটানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি।
হাসনাত লেখেন, কৃষ্ণদার কাছে চুল কাটানো শুধুই একটি সেবামূলক কাজ নয়, বরং এক ধরনের মানসিক আশ্রয়। তার দোকানে গেলে এলাকার সব খবর জানা যায়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে কৃষ্ণদা যেভাবে আগ্রহ নিয়ে তার পড়াশোনা, হলজীবন কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতেন, তা তাকে বারবার আবেগাপ্লুত করেছে।
স্ট্যাটাসে কৃষ্ণদার চুল কাটার ধরনও অত্যন্ত নান্দনিকভাবে বর্ণনা করেন তিনি। পুরনো ট্যালকম পাউডার, আফটারশেভ আর ভেজা চুলের গন্ধ, কাঁচির খচখচ শব্দ, মাথা আলতো করে কাত করে ধরা—সবকিছুতেই তিনি খুঁজে পান এক ধরনের মায়া আর প্রশান্তি।
তিনি আরও লেখেন, কৃষ্ণদার দোকানে ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলমান সবাই একই সাদা কাপড় পরে একই আয়নার সামনে বসেন। সেখানে কোনো বিভাজন নেই, নেই রাজনীতি বা ভেদাভেদ। আছে শুধু মানুষ হয়ে ওঠার এক নীরব সমতা।
পোস্টের শেষাংশে হাসনাত আক্ষেপ করে বলেন, আধুনিক এসি সেলুন, বিদেশি জেল আর চাকচিক্যের ভিড়ে মানুষ হয়তো অনেক কিছু পেলেও হারিয়ে ফেলছে মায়া আর আন্তরিকতা। কিন্তু জীবনের ‘কৃষ্ণদাদের’ হারাতে চান না তারা—যারা ক্লান্ত মানুষকে একটু যত্নে, একটু ভালোবাসায় আবার গুছিয়ে দেন।
আবেগঘন এই পোস্টটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই নিজেদের জীবনের পরিচিত ‘কৃষ্ণদা’দের কথা স্মরণ করে মন্তব্য করছেন। কেউ বলছেন, এটি শুধু একজন নাপিতের গল্প নয়; বরং হারিয়ে যেতে বসা মানবিক সম্পর্কের এক নির্মল প্রতিচ্ছবি।

ডেস্ক রিপোর্ট 























