বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিনই চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। সেই বাস্তবতা সরেজমিনে দেখতে এবং রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে এবার ক্যাম্প পরিদর্শনে গেলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। সফরকালে তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন।
শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে দুপুরে বিমানযোগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছান তিনি।
বিকেল ৪টার দিকে হাকান ফিদান উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার মান ও কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
পরে তিনি ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন। এসব ক্যাম্পে তুরস্কের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা, উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাব-১৫সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, সফর নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন হাকান ফিদান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তার এই সফরকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























