দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তি রূপরেখায় একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। প্রাথমিক এই সমঝোতা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও কমতে শুরু করেছে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি।
রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর নেতারা বলেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করে যেতে চান। এ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেও প্রস্তুত রয়েছে দেশগুলো।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বাস্তব ও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এখনও আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এদিকে রোববার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।”
এর আগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তি স্বাক্ষরের অগ্রগতির কথা ঘোষণা করেন। তার ওই ঘোষণার পরপরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপর বিদ্যমান চাপ অনেকটাই কমে যাবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















