ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চিফ প্রসিকিউটর: বেনজীরের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে ১৬ বছরের নিচে ফেসবুক-টিকটক-ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ, বড় সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের বাসা থেকে উদ্ধার অভিনেত্রী সঞ্চিতার মরদেহ, ঘিরে রহস্য জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের হোস্ট পাকিস্তান: শেহবাজ শরিফ মহাখালী-সায়দাবাদ-গুলিস্তান থেকে বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধবিরতির মাঝেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ভারতীয় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আসছে নতুন নিয়ম একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ শিশু এনআইসিইউতে, বাঁচাতে মরিয়া মা–বাবা ম্যাচ শেষে গ্যালারির আবর্জনা পরিষ্কার করলো জাপানি সমর্থকরা পদ্মা ও যমুনার পর নতুন সেতু পরিকল্পনায় সরকার, পাশে চীন

পদ্মা ও যমুনার পর নতুন সেতু পরিকল্পনায় সরকার, পাশে চীন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

 

চীনের অর্থায়নে দেশের অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়ক, সেতু ও রেল খাত মিলিয়ে প্রায় ২০টি মেগা প্রকল্পের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আরও একটি করে পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এসব প্রকল্প শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। আগামী সফরে চীনের সঙ্গে এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে কয়েক লাখ কোটি টাকা। তবে তালিকাভুক্ত সব প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত হবে না এবং সবগুলো প্রকল্প এখনই বাস্তবায়ন নাও হতে পারে। সরকারের অগ্রাধিকার থাকবে নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা প্রকল্পগুলোর ওপর।

সেতু বিভাগের তালিকায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর সংযোগকারী যমুনা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৩ হাজার যানবাহন চলাচল করে, যা ঈদের সময় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে বিকল্প সেতুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

একইভাবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মধ্যে। এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিদ্যমান পদ্মা সেতু মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা রুটে নির্মিত হলেও নতুন বিকল্প রুট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাবও তালিকায় রয়েছে। দেশের প্রধান বন্দর ও রাজধানীকে সংযুক্ত এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে। অতীতে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই হলেও তা পরে বাতিল করা হয়েছিল।

রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকা শহরে পাতাল রেল (সাবওয়ে) নির্মাণের প্রস্তাবও চীনা অর্থায়নের জন্য বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য সমীক্ষা অনুযায়ী, একাধিক রুটে প্রায় ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সাভারের হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পাবনা-রাজবাড়ী সেতু, দ্বিতীয় মুক্তারপুর সেতুসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পও তালিকায় রয়েছে। কর্ণফুলী টানেলসহ দেশের একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পে এর আগে চীনের অর্থায়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, চীনের সঙ্গে আসন্ন আলোচনায় এসব প্রকল্পের অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চিফ প্রসিকিউটর: বেনজীরের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে

পদ্মা ও যমুনার পর নতুন সেতু পরিকল্পনায় সরকার, পাশে চীন

আপডেট সময় ০৩:৩০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

 

চীনের অর্থায়নে দেশের অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়ক, সেতু ও রেল খাত মিলিয়ে প্রায় ২০টি মেগা প্রকল্পের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আরও একটি করে পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এসব প্রকল্প শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। আগামী সফরে চীনের সঙ্গে এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে কয়েক লাখ কোটি টাকা। তবে তালিকাভুক্ত সব প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত হবে না এবং সবগুলো প্রকল্প এখনই বাস্তবায়ন নাও হতে পারে। সরকারের অগ্রাধিকার থাকবে নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা প্রকল্পগুলোর ওপর।

সেতু বিভাগের তালিকায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে এই সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর সংযোগকারী যমুনা সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৩ হাজার যানবাহন চলাচল করে, যা ঈদের সময় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে বিকল্প সেতুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

একইভাবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার মধ্যে। এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিদ্যমান পদ্মা সেতু মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা রুটে নির্মিত হলেও নতুন বিকল্প রুট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তাবও তালিকায় রয়েছে। দেশের প্রধান বন্দর ও রাজধানীকে সংযুক্ত এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে। অতীতে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই হলেও তা পরে বাতিল করা হয়েছিল।

রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকা শহরে পাতাল রেল (সাবওয়ে) নির্মাণের প্রস্তাবও চীনা অর্থায়নের জন্য বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য সমীক্ষা অনুযায়ী, একাধিক রুটে প্রায় ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সাভারের হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পাবনা-রাজবাড়ী সেতু, দ্বিতীয় মুক্তারপুর সেতুসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পও তালিকায় রয়েছে। কর্ণফুলী টানেলসহ দেশের একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পে এর আগে চীনের অর্থায়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, চীনের সঙ্গে আসন্ন আলোচনায় এসব প্রকল্পের অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।