ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসিকে ছাড়িয়ে এমবাপে, দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু ফ্রান্সের  

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

Soccer Football - FIFA World Cup 2026 - Group I - France v Senegal - New York/New Jersey Stadium, East Rutherford, New Jersey, U.S. - June 16, 2026 France's Kylian Mbappe celebrates scoring their third goal with Dayot Upamecano, Jules Kounde and Rayan Cherki REUTERS/Dylan Martinez

ম্যাচের প্রথমার্ধে সেনেগালের গোছালো ফুটবলের সামনে পাত্তাই পাচ্ছিল না ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে দারুণভাবে গুছিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসেরা। জোড়া গোলে একাধিক কীর্তি গড়ে ফ্রান্সকে জেতালেন এমবাপে।

নিউ জার্সিতে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। দলের জয়ে এমবাপের জোড়া গোলের পাশাপাশি বদলি নেমে অন্য গোলটি করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।

দুই গোলে ফ্রান্সের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপে। ১৩৭ ম্যাচে ৫৭ গোল করে এত দিন শীর্ষে ছিলেন অলিভার জিরুদ। মাত্র ৯১ ম্যাচেই জিরুদকে ছাড়িয়ে গেলেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপে।

এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডেও লাফ দিয়েছেন এমবাপে। তার নামের পাশে এখন ১৫ ম্যাচে ১৪ গোল। নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই লিওনেল মেসিকে (১৩) ছাড়িয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা।

বিশ্বকাপে গোলের তালিকায় এমবাপের সামনে এখন শুধু জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজা (১৬) ও ব্রাজিলের রোনালদো (১৫)। এছাড়া তার সমান ১৪ গোল আছে আরেক জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের।

অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধ তো বটেই, প্রথম ৫০ মিনিটেও লক্ষ্য বরাবর কোনো শটই করতে পারেনি ফ্রান্স। সেখান থেকেই বাকি ৪০ মিনিটে সেনেগালের ওপর আক্রমণে ঝড় বইয়ে দেন এমবাপে, ওলিসে, বারকোলারা। 

 

সব মিলিয়ে ম্যাচ জুড়ে ৫৪ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে ফ্রান্স। গোলের জন্য ১২টি শট করে ৯টিই রাখে লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে সেনেগালের ৬ শটের মাত্র ২টি ছিল লক্ষ্যে। যেখানে একমাত্র গোলটি করেন ইব্রাহিম এমবায়ে।

প্রথমার্ধের একদম শেষ দিকে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি পায় সেনেগাল। এল হাদজি মালিক দিওফের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সে দারুণ জায়গায় এগিয়ে দেন সাদিও মানে। কিন্তু খুব কাছ থেকে পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন ইসমাইল সার।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৫৮ মিনিটের মাথায় ডি বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির আবেদন করেন এমবাপে। তবে ভিএআর দেখে সেটি নাকচ করে রেফারি। 

পরের মিনিটেই ওলিসের পাস থেকে প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান এমবাপে। যার সৌজন্যে জিরুদের ৫৭ ও মেসির ১৩ গোলে ভাগ বসান তারকা ফরোয়ার্ড। 

৮০ মিনিটে বল জালে জড়ান নিকোলাস জ্যাকসন। কিন্তু অফসাইডের কারণে সমতায় ফেরা হয়নি সেনেগালের।  

এর পরপরই ওসুমানে দেম্বেলেকে তুলে নিয়ে বারকোলাকে নামান ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। মাঠে নেমে প্রথম মিনিটেই আদ্রিয়ার র‍্যাবিয়টের পাস পেয়ে সেনেগালের জাল কাঁপান বারকোলা।

মনে হচ্ছিল, দুই গোলেই জিতে যাবে ফ্রান্স। তবে ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে এমবায়ের গোলে ড্রয়ের আশা জাগায় সেনেগাল। 

কিন্তু সেনেগালের আনন্দ বেশি লম্বা হয়নি। কারণ পরের মিনিটেই প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এমবাপে। আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ফ্রান্সের বড় জয়।

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসিকে ছাড়িয়ে এমবাপে, দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ শুরু ফ্রান্সের  

আপডেট সময় ০৪:৪৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ম্যাচের প্রথমার্ধে সেনেগালের গোছালো ফুটবলের সামনে পাত্তাই পাচ্ছিল না ফ্রান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে দারুণভাবে গুছিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসেরা। জোড়া গোলে একাধিক কীর্তি গড়ে ফ্রান্সকে জেতালেন এমবাপে।

নিউ জার্সিতে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। দলের জয়ে এমবাপের জোড়া গোলের পাশাপাশি বদলি নেমে অন্য গোলটি করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।

দুই গোলে ফ্রান্সের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন এমবাপে। ১৩৭ ম্যাচে ৫৭ গোল করে এত দিন শীর্ষে ছিলেন অলিভার জিরুদ। মাত্র ৯১ ম্যাচেই জিরুদকে ছাড়িয়ে গেলেন ২৭ বছর বয়সী এমবাপে।

এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডেও লাফ দিয়েছেন এমবাপে। তার নামের পাশে এখন ১৫ ম্যাচে ১৪ গোল। নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই লিওনেল মেসিকে (১৩) ছাড়িয়ে গেছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা।

বিশ্বকাপে গোলের তালিকায় এমবাপের সামনে এখন শুধু জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজা (১৬) ও ব্রাজিলের রোনালদো (১৫)। এছাড়া তার সমান ১৪ গোল আছে আরেক জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের।

অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধ তো বটেই, প্রথম ৫০ মিনিটেও লক্ষ্য বরাবর কোনো শটই করতে পারেনি ফ্রান্স। সেখান থেকেই বাকি ৪০ মিনিটে সেনেগালের ওপর আক্রমণে ঝড় বইয়ে দেন এমবাপে, ওলিসে, বারকোলারা। 

 

সব মিলিয়ে ম্যাচ জুড়ে ৫৪ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে ফ্রান্স। গোলের জন্য ১২টি শট করে ৯টিই রাখে লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে সেনেগালের ৬ শটের মাত্র ২টি ছিল লক্ষ্যে। যেখানে একমাত্র গোলটি করেন ইব্রাহিম এমবায়ে।

প্রথমার্ধের একদম শেষ দিকে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি পায় সেনেগাল। এল হাদজি মালিক দিওফের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সে দারুণ জায়গায় এগিয়ে দেন সাদিও মানে। কিন্তু খুব কাছ থেকে পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন ইসমাইল সার।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৫৮ মিনিটের মাথায় ডি বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির আবেদন করেন এমবাপে। তবে ভিএআর দেখে সেটি নাকচ করে রেফারি। 

পরের মিনিটেই ওলিসের পাস থেকে প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান এমবাপে। যার সৌজন্যে জিরুদের ৫৭ ও মেসির ১৩ গোলে ভাগ বসান তারকা ফরোয়ার্ড। 

৮০ মিনিটে বল জালে জড়ান নিকোলাস জ্যাকসন। কিন্তু অফসাইডের কারণে সমতায় ফেরা হয়নি সেনেগালের।  

এর পরপরই ওসুমানে দেম্বেলেকে তুলে নিয়ে বারকোলাকে নামান ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। মাঠে নেমে প্রথম মিনিটেই আদ্রিয়ার র‍্যাবিয়টের পাস পেয়ে সেনেগালের জাল কাঁপান বারকোলা।

মনে হচ্ছিল, দুই গোলেই জিতে যাবে ফ্রান্স। তবে ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে এমবায়ের গোলে ড্রয়ের আশা জাগায় সেনেগাল। 

কিন্তু সেনেগালের আনন্দ বেশি লম্বা হয়নি। কারণ পরের মিনিটেই প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এমবাপে। আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় ফ্রান্সের বড় জয়।