লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে সিরিয়াকে সামনে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তার মতে, হিজবুল্লাহ মোকাবিলায় সিরিয়া ইসরায়েলের চেয়েও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফ্রান্সের Évian-les-Bains শহরে অনুষ্ঠিত G7 Summit-এর ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে এবং এতে বহু প্রাণহানি ঘটছে। তাই তিনি ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, হিজবুল্লাহ ইস্যুটি সিরিয়াকে সামলাতে দেওয়া উচিত।
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট Ahmed al-Sharaa-এর প্রশংসা করে ট্রাম্প তাকে ‘খুব সক্ষম’, ‘শক্তিশালী’ ও ‘কঠিন’ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল যদি হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সিরিয়া সেই কাজ করতে সক্ষম হবে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, শারা হিজবুল্লাহকে পছন্দ করেন না এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
চলতি মাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্পের প্রকাশ্য এমন মন্তব্য, যা ১৯৭৬ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত লেবাননে সিরিয়ার দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির স্মৃতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর আগে সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন দূত Tom Barrack লেবাননে সিরীয় সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনার খবর নাকচ করেছিলেন।
অন্যদিকে, দামেস্ক সরকার এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। সিরিয়ার আশঙ্কা, লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে একদিকে ইরানের প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিয়া-সুন্নি বিভাজন নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিরীয় বাহিনী লেবাননে প্রবেশ করলে তা শুধু হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে। বর্তমানে সিরিয়া দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগী। সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতায় অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সরকার।
এদিকে, সিরিয়ার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, লেবাননে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ফলে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























