স্বাগতিক কানাডার জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় রাত। তবে সেই আনন্দঘন মুহূর্তকে বিষাদে পরিণত করেছে মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের ভয়াবহ ইনজুরি। কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কানাডা। কিন্তু ম্যাচের মাঝপথে কোনের পায়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয়।
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৫২তম মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোর কঠোর ট্যাকলের শিকার হন ইসমায়েল কোনে। সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কানাডিয়ান তারকা। প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্ট্রেচারে করে তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কানাডার কোচ জেসে মার্চও।
রেফারি প্রথমে মাদিবোকে হলুদ কার্ড দেখালেও পরে ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সরাসরি লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। এর আগে ৩৩তম মিনিটে কানাডার ফরোয়ার্ড তেজন বুকানানকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেছিলেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ফলে ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই ৯ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় কাতার।
কোনের ইনজুরির পর বদলি হিসেবে মাঠে নামা নাথান সালিবা ৬৪তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন। গোল উদযাপনের সময় তিনি কোনের জার্সি তুলে ধরে সতীর্থের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন, যা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে কানাডা। ১৬তম মিনিটে কাইল লারিন গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। এরপর ২৯তম মিনিট এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়ান জোনাথন ডেভিড।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই খেলোয়াড় কম নিয়ে রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খাওয়া কাতারের ওপর আরও চাপ বাড়ায় কানাডা। ৭৫তম মিনিটে মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। এরপর যোগ করা সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড এবং নিশ্চিত করেন ৬-০ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয়।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ডেভিড বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্বাগতিক দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করা মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান। দীর্ঘ ৬০ বছর পর স্বাগতিক দলের কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন।
কাতারের জন্য দিনটি ছিল দুঃস্বপ্নের। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে একই ম্যাচে আত্মঘাতী গোল এবং দুটি লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছে তারা।
অন্যদিকে কানাডা ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখেছে। এটি বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয়। একই সঙ্গে স্বাগতিক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে তারা।
এই জয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে কানাডা। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















