বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালিটি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার কোটি ডলার টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তিতে এই টোল আদায় করতে চায় ইরান। এ বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করেছে দেশটি। এমনকি সম্ভাব্য আয়ের একটি অংশ উপসাগরীয় দেশগুলোকে দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথের যেকোনো সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান এর আগেই দাবি করেছে, তাদের ভৌগোলিক সীমানার আওতায় থাকা এই প্রণালি ব্যবহারের জন্য বিদেশি জাহাজকে টোল দিতে হবে। এ সংক্রান্ত আইনও পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। তবে এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সম্প্রতি বলেছেন, হরমুজের ব্যবস্থাপনা আর কখনও আগের অবস্থায় ফিরবে না। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং এটি আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।
তবে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর হরমুজে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















