জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে বিষাক্ত শুঁয়োপোকার বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি পার্ক ও জনসমাগমস্থলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বার্লিন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, স্পান্ডাউ এলাকার প্রায় ৩৯ একরজুড়ে বিস্তৃত একটি পার্কসহ আশপাশের কিছু স্কুল, দিবাযত্নকেন্দ্র এবং সড়কপথে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো লাল-সাদা নিরাপত্তা টেপ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, যা অনেকটা অপরাধস্থলের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মতো দৃশ্য তৈরি করেছে।
বিষাক্ত শুঁয়োপোকা অপসারণে মাঠে নেমেছে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী দল। তারা রাসায়নিক বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত বিশেষ সুরক্ষা পোশাক ও উন্নতমানের ভেন্টিলেশন মাস্ক পরে কাজ করছেন।
বার্লিনের অন্যতম বৃহৎ পার্ক ইয়ুংফার্নহাইডেতেও চলছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। কর্মীরা বিশেষ ক্রেন ব্যবহার করে মাটি থেকে প্রায় ৬৫ ফুট উঁচুতে উঠে গাছের ডালপালায় থাকা শুঁয়োপোকার বাসা অপসারণ করছেন। এ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ভ্যাকুয়াম যন্ত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শুঁয়োপোকার শরীরেই প্রায় সাত লাখ পর্যন্ত অতি সূক্ষ্ম বিষাক্ত লোম থাকতে পারে। এসব লোম বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের ত্বক, চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে গুরুতর অ্যালার্জি বা স্বাস্থ্যজটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এ কারণেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সাধারণ ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের পরিবর্তে বিশেষ সাকশন প্রযুক্তির যন্ত্র ব্যবহার করছেন, যাতে বিষাক্ত লোমের একটি কণাও বাতাসে ছড়িয়ে না পড়ে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকার এবং সতর্কতা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিষাক্ত শুঁয়োপোকার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















