চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একের পর এক শিপইয়ার্ডে হামলা, মালামালবাহী যানবাহনে বাধা, রাস্তা বন্ধ, লুটপাট, কর্মকর্তাদের মারধর এবং চাঁদা দাবির ঘটনায় জাহাজভাঙ্গা শিল্প মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা তৈরী হয়েছে। থানা-পুলিশসহ বিভিন্ন দুয়ারে ধর্ণা দিয়েও সুরক্ষা পাচ্ছেন না তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিএসবিআরএ।
সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলবর্তী ফৌজদারহাট থেকে কুমিরা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড । বিদেশ থেকে পুরনো জাহাজ এনে স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করার মাধ্যমে এই শিল্পের সাথে জড়িত কয়েক হাজার মানুষ।
শিপ ব্রেকিং সেক্টরে এখন নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে চাঁদাবাজি। সম্প্রতি সাতটি শিপইয়ার্ডে চাঁদাবাজ চক্র হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইয়ার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে বিওবি শিপ রিসাইক্লার্স, বারাকা শিপব্রেকিং, সাগরিকা শিপব্রেকিং, জনতা শিপব্রেকিং, ফোরস্টার, মেহেরুন শিপব্রেকিং এবং টি আর শিপব্রেকিং ইয়ার্ড।
বারআউলিয়া এলাকায় অবস্থিত বিওবি শিপ রিসাইক্লার্সে একটি চক্র মালিক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের পথ রোধ করে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়িতে হামলা, কর্মকর্তাদের মারধর এবং চাঁদা দাবি করা হয়।
সাগরিকা ও বারাকা শিপ ইয়ার্ডে যাতায়াতের পথে টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠেছে । একইভাবে জনতা, ফোরস্টার ও মেহেরুন শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে মালামালবাহী যানবাহন আটকে চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। শতাধিক দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে টি আর শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে প্রবেশ করে মালামাল লুটপাট করে, কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ইয়ার্ড দখলের চেষ্টা করে।
একাধিক শিপইয়ার্ডে এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসবিআরএ জরুরি সভায় মিলিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির নবনিযুক্ত প্রশাসক ও উপসচিব আবু সাফায়েত মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম। সভায় জাহাজ ভাঙা শিল্পে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে প্রশাসকের নেতৃত্বে সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
বারাকা শিপইয়ার্ডের চেয়ারম্যান মো: সামছুল আলম জানান, থানায় অভিযোগ দিলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। প্রকাম্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্থানীয় সন্ত্রাসী রমজান আলী।
বিওবি শিপ রিসাইক্লার্সের মালিক মো. নুরুন নবী মানিক জানান, শিপ ব্রেকিং শিল্প এলাকায় এখন বিভিন্ন চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভায় সব ব্যবসায়ী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে উদ্বেগ প্রকাশ এবং লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। থানার ডিউটি অফিসার বলেন, এই ধরনের কিছু অভিযোগ তারা পেয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলেও গেছে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এসপি স্যারের সাথে ওসি স্যারের কথা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ৫টি জাহাজভাঙ্গা শিল্পের কর্মকান্ডকে স্তব্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে স্হানীয় রমজান আলী নামের এক সন্ত্রাসী। বারাকা শিপইয়ার্ডের প্রবেশ মুখে ওই সন্ত্রাসীর বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় দিনেদুপুরে টিন দিয়ে ঘেরা দিয়ে রাস্তার জায়গা দখল করে সংকুচিত করে রাখে। ইয়ার্ডের মালামাল যাতে যানবাহন নিয়ে বাইরে যেতে না পারে। সন্ত্রাসী রমজান মনে করছে ইয়ার্ড মালিকরা বাধ্য হয়ে তাকে চাঁদা দিবে। মালিকরা যদি প্রতি পদে পদে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হয় তাহলেতো তারা ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হবে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তাদের ভুমিকা রহস্যজনক।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















