ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ফোন, বালোগানের লাল কার্ড বাতিলে ফিফাকে রাজনৈতিক চাপ?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বিবৃতিতে কড়া বার্তা দিয়েছে ফিফাকে। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও কড়া সমালোচনা করেছে সংস্থার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে। ফিফা কোন পথে যাচ্ছে সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এছাড়া একাধিক দলের কোচ ফিফার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

 

গত ১ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পিঠের ওপর পা রাখার দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন তিনি। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। কারণ, সরাসরি লাল কার্ড দেখলে এর বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ থাকে না।

তবে ফিফা জানায়, শাস্তি স্থগিত রাখার বিধান ব্যবহার করে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারবেন।

এবিসি নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বালোগানের লাল কার্ডটি পুনর্বিবেচনা করতে বলার জন্য ফোন করেছিলেন। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যদিও ফিফা এবং হোয়াইট হাউসের ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্স এখনও এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার বলেছেন, এ ঘটনায় ফিফাকে গুরুতর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

 

ব্লাটার তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক ফোনকলের মাধ্যমে লাল কার্ড বাতিল হয় না। এটি বাতিল হয় নিয়ম, প্রমাণ এবং স্বাধীন বিচারিক সংস্থার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘যদি কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফিফা সভাপতির সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেন এবং এরপরই বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচের আগে একজন খেলোয়াড় হঠাৎ খেলার অনুমতি পেয়ে যান, তাহলে একটি প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে ওঠে তুমি কোথায় যাচ্ছ, ফিফা? ফুটবল কখনোই রাজনৈতিক ক্ষমতার খেলাঘর হয়ে উঠতে পারে না।’

 

এদিকে বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির এই সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত। সংস্থাটি বলেছে, তারা সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

সোমবার সকালে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আরবিএফএ ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং সোমবার যুক্তরাজ্যের সময় দুপুর ১টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তবে ফিফা এখনও নিশ্চিত করেনি যে তারা আরবিএফএকে আপিল করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে কি না।

 

বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়া ঘটনাটিকে ‘এপ্রিল ফুলের রসিকতার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যদিকে, রোববার মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের পর ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেলও সিদ্ধান্তটিকে ‘অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেন। জার্মান এই কোচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কে বাতিল করল, কখন করল এবং কী ভিত্তিতে করল? এখন বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? আমার কাছে এটা সত্যিই অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আমরা শুধু চাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।’

 

একই সুর নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাকেনের কণ্ঠে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন,‘আমি মনে করি এটি ফিফার একটি বড় ভুল। এটি কোনোভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। তাকে লাল কার্ড দেওয়া হয়েছিল এবং ভিএআর-ও নিশ্চিত করেছিল যে সেটি লাল কার্ড ছিল। তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, যার অর্থ আপনি এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো সে (বালোগান) কোনো গোল করবে বা ভালো খেলবে, তখন বেলজিয়াম ক্ষুব্ধ হবে। পরের বার কেউ লাল কার্ড পেলে কী হবে? তখন কি সেই কার্ড বাতিল করার কোনো ব্যবস্থা থাকবে? এটি একটি খারাপ, খারাপ, খারাপ, খারাপ, খারাপ সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্র যদি জয় পায়, তবে সেই সাফল্য সব সময় প্রশ্নের মুখে থাকবে। এটি খেলার জন্য মোটেও ভালো নয়।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ফোন, বালোগানের লাল কার্ড বাতিলে ফিফাকে রাজনৈতিক চাপ?

আপডেট সময় ১১:১৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বিবৃতিতে কড়া বার্তা দিয়েছে ফিফাকে। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারও কড়া সমালোচনা করেছে সংস্থার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে। ফিফা কোন পথে যাচ্ছে সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এছাড়া একাধিক দলের কোচ ফিফার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

 

গত ১ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পিঠের ওপর পা রাখার দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন তিনি। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মার্কিন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। কারণ, সরাসরি লাল কার্ড দেখলে এর বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সুযোগ থাকে না।

তবে ফিফা জানায়, শাস্তি স্থগিত রাখার বিধান ব্যবহার করে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে পারবেন।

এবিসি নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বালোগানের লাল কার্ডটি পুনর্বিবেচনা করতে বলার জন্য ফোন করেছিলেন। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাদের শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যদিও ফিফা এবং হোয়াইট হাউসের ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্স এখনও এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটার বলেছেন, এ ঘটনায় ফিফাকে গুরুতর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

 

ব্লাটার তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক ফোনকলের মাধ্যমে লাল কার্ড বাতিল হয় না। এটি বাতিল হয় নিয়ম, প্রমাণ এবং স্বাধীন বিচারিক সংস্থার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘যদি কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফিফা সভাপতির সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেন এবং এরপরই বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচের আগে একজন খেলোয়াড় হঠাৎ খেলার অনুমতি পেয়ে যান, তাহলে একটি প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে ওঠে তুমি কোথায় যাচ্ছ, ফিফা? ফুটবল কখনোই রাজনৈতিক ক্ষমতার খেলাঘর হয়ে উঠতে পারে না।’

 

এদিকে বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির এই সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত। সংস্থাটি বলেছে, তারা সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

সোমবার সকালে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আরবিএফএ ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং সোমবার যুক্তরাজ্যের সময় দুপুর ১টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তবে ফিফা এখনও নিশ্চিত করেনি যে তারা আরবিএফএকে আপিল করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে কি না।

 

বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়া ঘটনাটিকে ‘এপ্রিল ফুলের রসিকতার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যদিকে, রোববার মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের পর ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেলও সিদ্ধান্তটিকে ‘অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেন। জার্মান এই কোচ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কে বাতিল করল, কখন করল এবং কী ভিত্তিতে করল? এখন বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? আমার কাছে এটা সত্যিই অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আমরা শুধু চাই, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।’

 

একই সুর নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাকেনের কণ্ঠে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন,‘আমি মনে করি এটি ফিফার একটি বড় ভুল। এটি কোনোভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। তাকে লাল কার্ড দেওয়া হয়েছিল এবং ভিএআর-ও নিশ্চিত করেছিল যে সেটি লাল কার্ড ছিল। তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল, যার অর্থ আপনি এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো সে (বালোগান) কোনো গোল করবে বা ভালো খেলবে, তখন বেলজিয়াম ক্ষুব্ধ হবে। পরের বার কেউ লাল কার্ড পেলে কী হবে? তখন কি সেই কার্ড বাতিল করার কোনো ব্যবস্থা থাকবে? এটি একটি খারাপ, খারাপ, খারাপ, খারাপ, খারাপ সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্র যদি জয় পায়, তবে সেই সাফল্য সব সময় প্রশ্নের মুখে থাকবে। এটি খেলার জন্য মোটেও ভালো নয়।’