নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আরলিং হালান্ডের মাঠের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পেছনে কেবল কঠোর অনুশীলনই নয়, বরং লুকিয়ে আছে রাতের বেলার এক অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক রহস্য।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আইটিভি নিউজ (ITV News) এবং একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে হালান্ড নিজেই জানিয়েছেন তার এই বিশেষ অভ্যাসের কথা, যা বিশ্বজুড়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
হালান্ড প্রতি রাতে ঘুমানোর সময় মুখে এক ধরনের বিশেষ স্কচটেপ বা আঠা লাগিয়ে ঘুমান, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘মাউথ টেপিং’ (Mouth Taping)।
শুনতে পাগলামি মনে হলেও, এর মূল উদ্দেশ্য হলো ঘুমানোর সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বন্ধ করে শরীরকে কেবল নাক দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য করা।
হালান্ডের মতে, মাঠে সেরা পারফরম্যান্সের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গভীর ঘুম, আর নিখুঁত ঘুমের জন্য নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
স্পোর্টস সায়েন্স বা ক্রীড়া বিজ্ঞানও হালান্ডের এই দাবির পক্ষে জোরালো যুক্তি দেয়। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেয়ে নাক দিয়ে শ্বাস নিলে ফুসফুস অনেক বেশি কার্যকরভাবে অক্সিজেন শোষণ করতে পারে, যা রক্তের অক্সিজেন প্রবাহকে উন্নত করে। Sports
হালান্ডের মতো হাই-প্রোফাইল অ্যাথলেটের মাঠে ৯০ মিনিট অবিরাম দৌড়ানোর জন্য যে বিপুল স্ট্যামিনা বা দমের প্রয়োজন হয়, তা ধরে রাখতে এই অভ্যাস সরাসরি সাহায্য করে।
তাছাড়া মুখ বন্ধ থাকলে নাক ডাকার সমস্যা দূর হয়, মুখ শুকিয়ে যায় না এবং ঘুম অনেক গভীর হয়, যা কঠোর পরিশ্রমের পর একজন ফুটবলারের শরীরের ক্লান্তি দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে।
তবে মাঠের এই ‘সুপার-ফিট’ স্ট্রাইকার কেবল মুখে টেপ দিয়েই ক্ষান্ত হন না, নিখুঁত বিশ্রামের জন্য তিনি আরও কিছু কঠোর নিয়ম মেনে চলেন।
ঘুমানোর ঠিক তিন ঘণ্টা আগে থেকেই তিনি এক বিশেষ ধরনের চশমা পরেন, যা মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির ক্ষতিকর ব্লু-লাইট আটকে দেয়।
এছাড়া তাঁর শোবার ঘরে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ওয়াই-ফাই সিগন্যাল থাকে না। একদম শতভাগ প্রাকৃতিক, ঠান্ডা ও অন্ধকার পরিবেশে নিজের শরীরকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়াই হলো হালান্ডের মাঠ কাঁপানো গতির আসল রহস্য।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















