ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যারাডোনোর সেই আজতেকা স্টেডিয়ামে এবার বেলিংহ্যামের ‘ফুট অব গড’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

 

চার দশক আগে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের কারণে ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ৪০ বছর পর সেই ঐতিহাসিক মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামেই আবারও ইতিহাস লিখল থ্রি লায়ন্সরা। এবার বাদ পড়েনি ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যামের ‘ফুট অব গড’- এর সুবাদে ইংল্যান্ড মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

বেলিংহ্যামের ‘ফুট অব গড’ আবার কোনটা? আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচের একটা সময়ে জুড বেলিংহ্যাম পোস্টের সামনে অবিশ্বাস্য একটি ব্লক করেন। তার ওই ব্লকেই নিশ্চিত গোল হজমের থেকে বাঁচে ইংল্যান্ডে।

মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্টেস নিশ্চিত ছিলেন, এবার গোল আসবেই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রাউল হিমেনেজ কর্নার থেকে বার পোস্টে বল ভাসিয়ে দেন। স্কোরলাইন তখন মেক্সিকো ১–২ ইংল্যান্ড। মন্টেস ছিলেন একেবারে ফাঁকায়। মাত্র তিন গজ দূরে বার পোস্টের সামনে। সহজে ট্যাপ-ইন করলেই গোল। মনে হচ্ছিল, প্রথমার্ধেই ২-২ করে ফেলবে মেক্সিকো। আর আজতেকা স্টেডিয়ামের চাপেই ভেঙে পড়বে ইংল্যান্ড।

 

হঠাৎ করেই কোথা থেকে যেন এক লম্বা পা এসে মন্টেসকে আটকে দেয় এবং বলটি জোরে দূরে ঠেলে দেয়। গোল হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন ব্লক তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে। সেই মুহূর্তে বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডকে নিশ্চিত গোল হজমের থেকে বাঁচিয়ে দেন। তার এই স্লাইডিং ট্যাকল মন জয় করে নেয় সবার। কয়েক মিনিট আগেই দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০ লিড এনে দিয়েছিলেন বেলিংহ্যাম। তাইতো তার ওই ট্যাকেলকে তুলনা করা হচ্ছে, ‘ফুট অব গড’ হিসেবে! যদিও তা শুধু মানুষের মুখে মুখেই ঘুরছে।

তবে ম্যারাডোনোর মতো বেলিংহ্যামেরও এই ম্যাচে দারুণ কিছু মিল আছে। বিতর্কিত সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার নামের পাশে আছে দুই দল। দুই গোলের সময়ের ব্যবধান ছিল কয়েক মিনিট। বেলিংহ্যাম ম্যারাডোনার পর বিশ্বকাপে আজতেকায় জোড়া গোল করেন। দুইটি গোলের সময়ে ব্যবধান মাত্র ৯৬ সেকেন্ডের।

ম্যারাডোনো ছিলেন সেই ম্যাচের আর্জেন্টিনার নায়ক। বেলিংহ্যাম ৪০ বছর পর ইংল্যান্ডের। ম্যারাডোনা যেমন সেই ম্যাচে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, বেলিংহ্যাম ছিলেন ইংল্যান্ডের ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দু। মেক্সিকোর তীব্র চাপ সামলাতে তার ড্রিবলিং ছিল সাহসী ও নিয়ন্ত্রিত, যেন পুরো ম্যাচটাই তার নিয়ন্ত্রণে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যারাডোনোর সেই আজতেকা স্টেডিয়ামে এবার বেলিংহ্যামের ‘ফুট অব গড’

আপডেট সময় ১১:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

 

চার দশক আগে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের কারণে ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ৪০ বছর পর সেই ঐতিহাসিক মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামেই আবারও ইতিহাস লিখল থ্রি লায়ন্সরা। এবার বাদ পড়েনি ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যামের ‘ফুট অব গড’- এর সুবাদে ইংল্যান্ড মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

বেলিংহ্যামের ‘ফুট অব গড’ আবার কোনটা? আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচের একটা সময়ে জুড বেলিংহ্যাম পোস্টের সামনে অবিশ্বাস্য একটি ব্লক করেন। তার ওই ব্লকেই নিশ্চিত গোল হজমের থেকে বাঁচে ইংল্যান্ডে।

মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্টেস নিশ্চিত ছিলেন, এবার গোল আসবেই। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রাউল হিমেনেজ কর্নার থেকে বার পোস্টে বল ভাসিয়ে দেন। স্কোরলাইন তখন মেক্সিকো ১–২ ইংল্যান্ড। মন্টেস ছিলেন একেবারে ফাঁকায়। মাত্র তিন গজ দূরে বার পোস্টের সামনে। সহজে ট্যাপ-ইন করলেই গোল। মনে হচ্ছিল, প্রথমার্ধেই ২-২ করে ফেলবে মেক্সিকো। আর আজতেকা স্টেডিয়ামের চাপেই ভেঙে পড়বে ইংল্যান্ড।

 

হঠাৎ করেই কোথা থেকে যেন এক লম্বা পা এসে মন্টেসকে আটকে দেয় এবং বলটি জোরে দূরে ঠেলে দেয়। গোল হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন ব্লক তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে। সেই মুহূর্তে বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডকে নিশ্চিত গোল হজমের থেকে বাঁচিয়ে দেন। তার এই স্লাইডিং ট্যাকল মন জয় করে নেয় সবার। কয়েক মিনিট আগেই দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-০ লিড এনে দিয়েছিলেন বেলিংহ্যাম। তাইতো তার ওই ট্যাকেলকে তুলনা করা হচ্ছে, ‘ফুট অব গড’ হিসেবে! যদিও তা শুধু মানুষের মুখে মুখেই ঘুরছে।

তবে ম্যারাডোনোর মতো বেলিংহ্যামেরও এই ম্যাচে দারুণ কিছু মিল আছে। বিতর্কিত সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার নামের পাশে আছে দুই দল। দুই গোলের সময়ের ব্যবধান ছিল কয়েক মিনিট। বেলিংহ্যাম ম্যারাডোনার পর বিশ্বকাপে আজতেকায় জোড়া গোল করেন। দুইটি গোলের সময়ে ব্যবধান মাত্র ৯৬ সেকেন্ডের।

ম্যারাডোনো ছিলেন সেই ম্যাচের আর্জেন্টিনার নায়ক। বেলিংহ্যাম ৪০ বছর পর ইংল্যান্ডের। ম্যারাডোনা যেমন সেই ম্যাচে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, বেলিংহ্যাম ছিলেন ইংল্যান্ডের ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দু। মেক্সিকোর তীব্র চাপ সামলাতে তার ড্রিবলিং ছিল সাহসী ও নিয়ন্ত্রিত, যেন পুরো ম্যাচটাই তার নিয়ন্ত্রণে।