ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পর্তুগালের নতুন কোচ জেসুস ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ইতালি: মেলোনি খামেনির শেষযাত্রার পথে মার্কিন হামলা, রেলসেতু ধ্বংসের পর বন্ধ ট্রেন চলাচল আগামী নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে: আইনমন্ত্রী সেন্ট মার্টিন–শাহপরীর দ্বীপে ভেসে এলো ৩ অর্ধগলিত মরদেহ ‘অবৈধ’ ইসরায়েলিদের তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ করল আয়ারল্যান্ড আর্জেন্টিনা–মিশর বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা ৬ মিনিট সময় পেলে তুমি কী করবে? জবাবে মামদানি বললেন, মিসরের ডাকাতির শিকার হওয়ার রিপ্লে দেখব শিল্পচর্চাকেই নিজের স্বপ্নপূরণের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছি: সালমান মিশরের বিতর্কিত হারের পর মরক্কোর সংহতি, ভাইরাল এক্স পোস্ট

‘অবৈধ’ ইসরায়েলিদের তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ করল আয়ারল্যান্ড

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

এবার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইসরায়েলের সীমান্তের বাইরে অবস্থিত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার বিলটি পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে অন্যতম কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে। ইসরায়েলি বসতিশীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরায়েলের স্বীকৃত সীমান্তের বাইরে থাকা আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত কোনো পণ্য আয়ারল্যান্ডে আমদানি করা যাবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেনও এ ধরনের আমদানি নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

আয়ারল্যান্ডের ক্ষমতাসীন মধ্যডানপন্থী জোট সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতের ভিত্তিতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই মতামতে আইসিজে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের উপস্থিতি একটি অবৈধ দখলদারিত্ব।  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এসব অঞ্চলের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সংযোগের দাবি করে আসছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানি করা ফল, শাকসবজি ও কাঠসহ বিভিন্ন পণ্যের মোট বাণিজ্যিক মূল্য ছিল ১০ লাখ ইউরোরও কম।

তবে বিরোধীরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছে, সেবা খাতকে এর আওতার বাইরে রেখে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আইনটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। জবাবে সরকার বলেছে, সেবা খাতে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে আরও জটিল। তাই আইনটি কার্যকর করার আগে বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট ও নির্ভুল করা প্রয়োজন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে দেশটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।

এর পরপরই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেচরম ইসরায়েলবিরোধী নীতিঅনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং ডাবলিনে ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন। এছাড়া গত মাসে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের প্রতি আচরণের প্রতিবাদে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেনগভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের আয়ারল্যান্ডে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ডাবলিন। একই সঙ্গে ১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত ইউরোপীয় ইউনিয়নইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি পুনর্বিবেচনার জন্যও দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে আয়ারল্যান্ড।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্তুগালের নতুন কোচ জেসুস

‘অবৈধ’ ইসরায়েলিদের তৈরি পণ্য নিষিদ্ধ করল আয়ারল্যান্ড

আপডেট সময় ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

এবার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইসরায়েলের সীমান্তের বাইরে অবস্থিত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার বিলটি পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলনিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে অন্যতম কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে। ইসরায়েলি বসতিশীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরায়েলের স্বীকৃত সীমান্তের বাইরে থাকা আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত কোনো পণ্য আয়ারল্যান্ডে আমদানি করা যাবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেনও এ ধরনের আমদানি নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

আয়ারল্যান্ডের ক্ষমতাসীন মধ্যডানপন্থী জোট সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া পরামর্শমূলক মতামতের ভিত্তিতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই মতামতে আইসিজে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের উপস্থিতি একটি অবৈধ দখলদারিত্ব।  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এসব অঞ্চলের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক সংযোগের দাবি করে আসছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানি করা ফল, শাকসবজি ও কাঠসহ বিভিন্ন পণ্যের মোট বাণিজ্যিক মূল্য ছিল ১০ লাখ ইউরোরও কম।

তবে বিরোধীরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছে, সেবা খাতকে এর আওতার বাইরে রেখে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আইনটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। জবাবে সরকার বলেছে, সেবা খাতে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে আরও জটিল। তাই আইনটি কার্যকর করার আগে বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট ও নির্ভুল করা প্রয়োজন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে দেশটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।

এর পরপরই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেচরম ইসরায়েলবিরোধী নীতিঅনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং ডাবলিনে ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন। এছাড়া গত মাসে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের প্রতি আচরণের প্রতিবাদে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেনগভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের আয়ারল্যান্ডে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ডাবলিন। একই সঙ্গে ১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত ইউরোপীয় ইউনিয়নইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তি পুনর্বিবেচনার জন্যও দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে আয়ারল্যান্ড।