নভেম্বরে ঢাকায় বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্ট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে সাফের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাফ জেতার তীব্র আকাক্সক্ষা এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাফ শিরোপা ঘরে তোলার এই অভিযানে ডুলি তার পরিকল্পনা এবং দলের মানসিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন ডুলি। খেলা ছাড়ার পর দীর্ঘ চার বছর যুক্তরাষ্ট্র দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন।
এ ছাড়া ফিলিপাইন, গায়ানার মতো দলকে কোচিং করিয়েছেন।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নিজেকে ডুলি গড়ে তুলেছিলেন বিজয়ী মানসিকতায়। সেই ইতিবাচক মানসিকতাই বাংলাদেশ দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন কোচ।
প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ই ডুলির একমাত্র চাওয়া, ‘আমরা কার বিপক্ষে খেলছি, তা বিবেচ্য নয়।
আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা, যা আমাকে খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে যেন তারাও একই কথা ভাবে।’
দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ রয়েছে উল্লেখ করে কোচ জানান, প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব গুণ নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি, ‘আমরা এমন খেলা উপহার দিতে চাই যেন দর্শকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে না যায়। তারা যেন মুখ ফিরিয়ে না নেয়।
তারা যেন বলে, দল যে খেলাটা খেলে তা পছন্দ হয়েছে এবং আমি চাই দর্শকরা যেন জয় নিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরতে পারে।’
ঘরের মাঠে আট বছর পর সাফ খেলবে বাংলাদেশ। তাই শিরোপা জয়ের বিকল্প দেখছেন না কোচ, ‘টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য? আপনাদের কী মনে হয়? অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফুটবলারদেরও আমি একটাই বার্তা দিব—মাঠে নামো, নিজের যা আছে সবটুকু উজাড় করে দাও। এরপর যদি অন্য দল ভালো খেলে ফেলে বা জিতে যায়, সেটা হবে আমাদের দুর্ভাগ্য। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ, আমরা ভুল করলে কঠোর হবেন না। কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করা ফুটবলাররাও ভুল করে।’
বাংলাদেশ একবারই সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে; ২০০৩ সালে দেশের মাটিতেই। ২৩ বছর ধরে যে ট্রফি আর পাওয়া হয়নি, সেই খরা এবার কাটাতে চান ডুলি। সেজন্য দর্শকদের মাঠে এসে বাংলাদেশ দলকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ডুলির এই অদম্য মানসিকতা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত সাফল্য এনে দিতে পারে কি না, তা সময়ই বলে দিবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















