ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে আবারও আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে: জামায়াতের আমির শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল এক হলে সরকারের পতন অনিবার্য: কর্নেল অলি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকে হারানোর মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে চান বাংলাদেশের কোচ স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গলায় ফাঁস, প্রাণ গেল নারী ইউপি সদস্যের জমি লিখে না দেওয়ায় প্রতিবন্ধী মা-র সঙ্গে ছেলে ইসলামী আন্দোলনের নেতার অমানবিক আচরণ সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন: জামায়াত আমির

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গলায় ফাঁস, প্রাণ গেল নারী ইউপি সদস্যের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেত্রী ও ইউপি সদস্য শিলা আক্তার (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনগত রাতে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

নিহত শিলা ইসলাম (৩৫) আগৈলঝাড়া উপজেলা মহিলা লীগের‌ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলার গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য ছিলেন। তার স্বামী আগৈলঝাড়ার সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। শিলার তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের রিপন সরদারের ভাড়া বাসায় শীলা আক্তারের সঙ্গে তার স্বামী শফিকুল ইসলামের পারিবারিক কলহ নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে শীলা আক্তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। এসময় প্রতিবেশীরা দেখতে পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ইউপি সদস্যা শীলা আক্তারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করেন। পরে রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিলা ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

নিহতের বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, গত একবছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত আমার মেয়ে শীলাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় থাকত। কারণে-অকারণে তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই শীলাকে মারধর করত।

 

 

শীলার মা ফাতেমা বেগম জানান, ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে সেরাল গ্রামের ভাড়া বাসায় মারুফ তার মেয়ে শীলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। নির্যাতন সইতে না পেরে ঘরের দরজা বন্ধ করে শীলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙ্গে শীলাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিযয়াবাতের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গলায় ফাঁস, প্রাণ গেল নারী ইউপি সদস্যের

আপডেট সময় ১০:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেত্রী ও ইউপি সদস্য শিলা আক্তার (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনগত রাতে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

নিহত শিলা ইসলাম (৩৫) আগৈলঝাড়া উপজেলা মহিলা লীগের‌ শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলার গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য ছিলেন। তার স্বামী আগৈলঝাড়ার সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী। শিলার তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের রিপন সরদারের ভাড়া বাসায় শীলা আক্তারের সঙ্গে তার স্বামী শফিকুল ইসলামের পারিবারিক কলহ নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে শীলা আক্তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। এসময় প্রতিবেশীরা দেখতে পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ইউপি সদস্যা শীলা আক্তারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করেন। পরে রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিলা ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

নিহতের বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, গত একবছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত আমার মেয়ে শীলাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় থাকত। কারণে-অকারণে তার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই শীলাকে মারধর করত।

 

 

শীলার মা ফাতেমা বেগম জানান, ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে সেরাল গ্রামের ভাড়া বাসায় মারুফ তার মেয়ে শীলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। নির্যাতন সইতে না পেরে ঘরের দরজা বন্ধ করে শীলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙ্গে শীলাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিযয়াবাতের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।