এবার মানুষের তৈরি প্রায় পাঁচতলা ভবনের সমান একটি রকেটের পরিত্যক্ত অংশ ঘণ্টায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে। বুধবার (৫ আগস্ট) তিন টন টিএনটির (বোমা) শক্তির সমান এই সংঘর্ষ ঘটবে বলে জানান গবেষকরা।
মহাকাশে চন্দ্রযান পৌঁছে দেওয়ার পর স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপরের অংশটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কক্ষপথে ভাসছিল এবং পরবর্তীতে চাঁদের অভিকর্ষজ বলের কারণে এটি চাঁদের দিকে টেনে যায়। মহাকাশবিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী রকেটের অংশটি চাঁদের আলোকময় অংশের আইন্স্টাইন গহ্বরের কাছে আঘাত হানবে এবং এর ফলে প্রায় ২৭ মিটার চওড়া ও ৫ মিটার গভীর একটি নতুন গহ্বর তৈরি হবে।
টেক্সাস ইউনিভার্সিটির গবেষক উইলিয়াম জো জানান, সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৫ থেকে ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিউ মেক্সিকোর লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক বেঞ্জামিন ফার্নান্দো জানান যে আলোর ঝলকানি এক সেকেন্ডের কম সময় স্থায়ী হলেও টেলিস্কোপের সাহায্যে মহাকাশ ও পৃথিবী থেকে কয়েক মিনিটের জন্য উৎক্ষিপ্ত বস্তুকণা দৃশ্যমান হতে পারে।
চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় এই সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বিস্ফোরণে পৃথিবী বা ভবিষ্যতের মানব অভিযানের কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নেই। নাসা তাদের ‘লুনার রিকনসাইস্যান্স অরবিটার’ দিয়ে এই পরিবর্তনের আগের ও পরের ছবি তুলবে, তবে এই ঘটনাটি দূর মহাশূন্যে মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট 




















