ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা মেজাজ হারিয়ে মিরাজকে স্টার্ক বললেন— ‘তুমি কিন্তু বাংলাদেশে নেই’ পুত্রবধূকে বাঁচাতে গিয়ে শ্বশুরও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রাণ গেল দুজনেরই ৭ সহকারী পুলিশ সুপারকে বাধ্যতামূলক অবসর ইতালিতে নিহত একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশীর মরদেহ দেশে ফিরেছে যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০ নেত্রকোণায় কবরস্থানের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০ চট্টগ্রামে জামায়াত নেতার মাদ্রাসায় মিলল সরকারি ধানের বীজ শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে ভারত সফর করবেন না তারেক রহমান

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৮

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমদিকে ঘটনাটি নিয়ে বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পরে প্রশাসন জানায়, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ কক্ষে কয়েকজন শ্রমিক প্রবেশ করলে সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তারা আক্রান্ত হন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলেই কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—নাসির উদ্দিন (৪৭) ও মনসুর আহমদ (৫৫), যারা সম্পর্কে দুই ভাই; সানি জলদাশ (৩৫) ও পলাশ জলদাশ (৩৯), দুজনই সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া গাইবান্ধার মো. খোকন (৪০) ও মো. রানা (২৭) নিহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটজনে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমও নিশ্চিত করেছেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন শ্রমিক এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ড এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে জাহাজের বদ্ধ কক্ষে বিষাক্ত গ্যাস জমা হলো এবং সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরল খনিজের খোঁজে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৮

আপডেট সময় ০৪:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রথমদিকে ঘটনাটি নিয়ে বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পরে প্রশাসন জানায়, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ কক্ষে কয়েকজন শ্রমিক প্রবেশ করলে সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তারা আক্রান্ত হন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলেই কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—নাসির উদ্দিন (৪৭) ও মনসুর আহমদ (৫৫), যারা সম্পর্কে দুই ভাই; সানি জলদাশ (৩৫) ও পলাশ জলদাশ (৩৯), দুজনই সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া গাইবান্ধার মো. খোকন (৪০) ও মো. রানা (২৭) নিহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটজনে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগমও নিশ্চিত করেছেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন শ্রমিক এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ড এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে জাহাজের বদ্ধ কক্ষে বিষাক্ত গ্যাস জমা হলো এবং সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।