স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে শেষবারের মতো দেখতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সোয়া ৬টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় বের হন তিনি। পরে প্রিজন ভ্যান ও পুলিশের নিরাপত্তাবহরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন দীপু মনি। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডির কলাবাগানে নিজ বাসায় পৌঁছান তিনি।
এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তৌফিক নেওয়াজকে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে মারা যান তিনি।
স্বামীর মৃত্যুর পর দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্ত করতে বুধবার সকাল থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করেন তার মেয়ে তানী দীপাবলি ও আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।
আইনজীবী চার দিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেও মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেন।
কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. হাসেম রেজা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় প্যারোলে মুক্তির নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে দীপু মনিকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার নিরাপত্তায় পুলিশের দুটি গাড়ি ও একটি প্রিজন ভ্যানে মোট ৩৮ জন সদস্য রয়েছেন। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ সকালে কলাবাগানের বাসায় নেওয়া হয়েছে। সেখানেই স্বামীর মরদেহ দেখবেন দীপু মনি। পরে মরদেহ নেওয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। বাদ জোহর জানাজা ও দোয়া শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন দীপু মনি। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তৌফিক নেওয়াজ। কারাগারের বাইরে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও অনুমতি পাননি দীপু মনি। এমনকি আদালতে হাজিরার সময় শয্যাশায়ী তৌফিক নেওয়াজকে স্ট্রেচারে করে তার সঙ্গে দেখা করতে যেতে হয়েছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















