ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিলো এলাকাবাসী ইরান যুদ্ধে কতজন মার্কিন সেনা হতাহত, জানালো পেন্টাগন যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না, তাদের মাধ্যমেই বড় বড় দুর্নীতি হয়: সাদিক কায়েম অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে পূরণ করতে হবে যে ৭ শর্ত ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট শামীম কায়সারকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তে হেফাজতের তীব্র প্রতিবাদ ইলিয়াসের ভিডিওর পর নুরুল হকের স্ট্যাটাসে ‘হা হা’ রিঅ্যাকশনের বন্যা পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ লেখা বাদ দিলো সৌদি আরব!

‘আমার ৫০ বিয়ে হলেও সমস্যা নেই’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, হানি ট্রাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে নাছরুম আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জীবনে একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া অভিযোগে আবুল বাশার দাবি করেন, তার প্রবাসী ছেলে সাইফুল ইসলাম মাসুমকে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে নাছরুম আক্তার বিয়ে করেন। পরে মাসুমের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজের নামেও জমি লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুমের মৃত্যু হয়। এরপরও নাছরুম তাদের পরিবারের কাছে বিভিন্নভাবে অর্থ দাবি করেন এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যান বলে দাবি আবুল বাশারের। এ ঘটনায় তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও দেন বলে জানান।

 

আবুল বাশারের আরও অভিযোগ, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুমকে বাবার বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট তিনি তার ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজনকে নিয়ে আবুল বাশারের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। পরে তিনি জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।

 

অভিযোগকারী দাবি করেন, নাছরুম আক্তার প্রথমে অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি এফিডেভিট দেখিয়ে মাসুমের সঙ্গে বিয়ের দাবি করেন। তবে কাগজটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে অ্যাডভোকেট নওশেদ সেটি দেননি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দেন।

পরবর্তীতে শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজির স্বাক্ষরযুক্ত কাবিননামা উপস্থাপন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল বাশারের দাবি, ওই কাজি কাবিনটি রেজিস্ট্রি হয়নি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা জানান, নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের নামে প্রতারণা এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফরিদ নামে এক যুবককে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করার পর তার কাছ থেকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও এফডিআরের টাকা নেওয়া হয়। পরে মাইনুদ্দিন, খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু ও সাগর নামের আরও কয়েকজনের সঙ্গেও বিয়ের নামে প্রতারণা এবং কাবিনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে নাছরুম আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তার জীবনে একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

বর্তমানে তিনি নিজেকে সাইফুল ইসলাম মাসুমের স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘আমি মাসুমের স্ত্রী। মাসুমের বাড়িতেই তিন বছর ধরে সংসার করছি। মাসুম মারা গেছে, তাতে সমস্যা নেই। আমি ওই বাড়িতেই থাকব।’

এ ঘটনায় মৃত মাসুমের বাবা আবুল বাশার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে হয়রানি থেকে মুক্তি এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার দাবি করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিলো এলাকাবাসী

‘আমার ৫০ বিয়ে হলেও সমস্যা নেই’

আপডেট সময় ০৯:১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, হানি ট্রাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে নাছরুম আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জীবনে একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া অভিযোগে আবুল বাশার দাবি করেন, তার প্রবাসী ছেলে সাইফুল ইসলাম মাসুমকে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে নাছরুম আক্তার বিয়ে করেন। পরে মাসুমের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজের নামেও জমি লিখে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুমের মৃত্যু হয়। এরপরও নাছরুম তাদের পরিবারের কাছে বিভিন্নভাবে অর্থ দাবি করেন এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যান বলে দাবি আবুল বাশারের। এ ঘটনায় তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও দেন বলে জানান।

 

আবুল বাশারের আরও অভিযোগ, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুমকে বাবার বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ আগস্ট তিনি তার ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজনকে নিয়ে আবুল বাশারের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান। পরে তিনি জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।

 

অভিযোগকারী দাবি করেন, নাছরুম আক্তার প্রথমে অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি এফিডেভিট দেখিয়ে মাসুমের সঙ্গে বিয়ের দাবি করেন। তবে কাগজটির সত্যতা যাচাই করতে গেলে অ্যাডভোকেট নওশেদ সেটি দেননি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দেন।

পরবর্তীতে শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজির স্বাক্ষরযুক্ত কাবিননামা উপস্থাপন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল বাশারের দাবি, ওই কাজি কাবিনটি রেজিস্ট্রি হয়নি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা জানান, নাছরুম আক্তারের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের নামে প্রতারণা এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ফরিদ নামে এক যুবককে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে করার পর তার কাছ থেকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার ও এফডিআরের টাকা নেওয়া হয়। পরে মাইনুদ্দিন, খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম মন্টু ও সাগর নামের আরও কয়েকজনের সঙ্গেও বিয়ের নামে প্রতারণা এবং কাবিনের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে নাছরুম আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তার জীবনে একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করেন। তবে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।’

বর্তমানে তিনি নিজেকে সাইফুল ইসলাম মাসুমের স্ত্রী দাবি করে বলেন, ‘আমি মাসুমের স্ত্রী। মাসুমের বাড়িতেই তিন বছর ধরে সংসার করছি। মাসুম মারা গেছে, তাতে সমস্যা নেই। আমি ওই বাড়িতেই থাকব।’

এ ঘটনায় মৃত মাসুমের বাবা আবুল বাশার ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে হয়রানি থেকে মুক্তি এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার দাবি করা হয়েছে।