ইসরাইল ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে সৌদি আরবের স্কুল পাঠ্যক্রমে আগের তুলনায় নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে হিব্রু ভাষার সংবাদপত্র ‘মারিভ’।
সংবাদমাধ্যমটি ইসরাইলি গবেষণা প্রতিষ্ঠান IMPACT-se এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের স্কুলের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে এ পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিশন ২০৩০-এর আওতায় সৌদি শাসক পরিবারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইসরায়েল, ইহুদি সম্প্রদায় ও জেরুজালেম-সংক্রান্ত পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘শত্রুতাপূর্ণ বক্তব্য’ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে একাদশ শ্রেণির আরবি ভাষার একটি পাঠ্যবইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সংস্করণে সেখানে লেখা ছিল, ‘মুসলিমরা জেরুজালেম ছেড়ে দেবে না।’ তবে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রকাশিত সংস্করণগুলোতে বাক্যটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, ওই বাক্যটি জেরুজালেমে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ বা উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে—এমন একটি ধারণা তুলে ধরত। বাক্যটি বাদ দেওয়ার ফলে শহরটি নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত একটি বক্তব্যও পাঠ্যবই থেকে সরানো হয়েছে।
তবে সৌদি পাঠ্যবই থেকে ওই বাক্য বাদ দেওয়ার প্রশংসা করা হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের একটি অংশ নিয়মিত আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করে সেখানে ‘ইহুদি মন্দির’ নির্মাণের আহ্বান জানাচ্ছেন।
সোমবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো দখল করা পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের ভেতরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ইহুদি প্রার্থনার অনুমতি দেয়।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে কয়েক দশক ধরে চলে আসা প্রচলিত স্থিতাবস্থা আরও লঙ্ঘন ও দুর্বল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-এসইর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী সৌদি আরবের পাঠ্যক্রম থেকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষের সব উপাদান’ বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে কোরআনের কিছু আয়াত এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী ও শিক্ষা-সংবলিত কিছু হাদিস বাদ দেওয়াকেও ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি পাঠ্যবই থেকে একটি পরিচিত হাদিসও বাদ দেওয়া হয়েছে। ওই হাদিসে বলা হয়েছে, মহানবী (সা.) এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে গিয়েছিলেন। পরে ওই বালক ইসলাম গ্রহণ করে।
ইমপ্যাক্ট-এসই বলেছে, ২০২৫ সালের সংস্করণে এই উদাহরণটি বাদ দেওয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। কারণ, এখন শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না যে ইসলামে অবিশ্বাসের পরিণতি নিশ্চিত ধ্বংস।
কুফর ও পাপ নিয়ে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত সংক্ষিপ্ত করেছে সৌদি আরব। আর তাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট-এসই।
তবে অন্য ধর্মগুলোতেও একই ধরনের শিক্ষা রয়েছে উল্লেখ করে সংস্থাটি সৌদি পাঠ্যবইয়ের সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, সৌদি স্কুলগুলোতে এখনো ইসলামকে মানবজাতির ‘স্বাভাবিক ধর্ম’ হিসেবে শেখানো হয়।
প্রতিবেদনে পাঠ্যবইয়ের মানচিত্র ও শব্দচয়নও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ইমপ্যাক্ট-এসই জানিয়েছে, আগের কয়েকটি মানচিত্রে ইসরায়েলকে দেখানো হয়নি। পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ মানচিত্র থেকে ‘ফিলিস্তিন’ নামটিও সরিয়ে দিয়েছে।
যদিও মানচিত্রে এখনো ইসরায়েলের নাম দেখানো হয়নি, নতুন পরিবর্তনের ফলে পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি বাদ পড়েছে। একাদশ শ্রেণির একটি ইতিহাস বইয়ে ‘ইহুদি শত্রু’ শব্দের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছে।
সৌদি আরবের পাঠ্যক্রমে এমন পরিবর্তন দেশটির সাম্প্রতিক সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রমের অংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ডেস্ক রিপোর্ট 


















