ঢাকা , শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিলো এলাকাবাসী ইরান যুদ্ধে কতজন মার্কিন সেনা হতাহত, জানালো পেন্টাগন যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না, তাদের মাধ্যমেই বড় বড় দুর্নীতি হয়: সাদিক কায়েম অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনাকে পালাতে হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ক্ষেত্রে পূরণ করতে হবে যে ৭ শর্ত ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট শামীম কায়সারকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তে হেফাজতের তীব্র প্রতিবাদ ইলিয়াসের ভিডিওর পর নুরুল হকের স্ট্যাটাসে ‘হা হা’ রিঅ্যাকশনের বন্যা পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ লেখা বাদ দিলো সৌদি আরব!

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এরপরই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। তার পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো

 

‘আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন।

 

সে বছর নির্বাচনের আগে উনি আমার মতো তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে ভিডিও করেছিলেন। শুরু করেছিলেন এভাবে, ‘আপনারা যারা এবারে প্রথম ভোট দেবেন, তাদেরকে আমি কিছু বলতে চাই।’

 

মানুষটা সুবক্তা। রাজনীতিতে আসার আগে শিক্ষক ছিলেন, কথা শুনলে সেটা বোঝা যেত। সবাই বলছিল ভোট চুরি হবে। উনি বলেছিলেন- কেন্দ্রে গিয়ে দেখিয়ে দিন ‘আপনারাই দেশের মালিক’, ‘ইউ ম্যাটার’।

ওনার কথা মনে করেই খিলগাঁওয়ে আমাদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলাম। সকালেই বুঝতে পারি কত বড় কারচুপি হচ্ছে।

 

 

এতো কিছুর পরও উনি নিজের আসনে জিতেছিলেন। কিন্তু সংসদে যান নাই। কারচুপির ভোটে গড়া সংসদে তিনি বসতে চান নাই।

 

ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দূরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না। বরং ক্ষমতার চেয়ার পেতে সব নীতি বিকিয়ে দেন। উনি এখানে অনন্য।

 

যে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, বার বার তাকে জেলে পাঠিয়েছে, তারা পনেরো বছরেও তার নামে দুর্নীতির একটা মামলা দাঁড় করাতে পারেন নাই।

 

রাজনীতিতে আসার পর অনেক প্রবীণ মানুষের পরামর্শ চেয়েছি, রাজনীতির ভেতরের এবং বাইরের। স্যারের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে, ওনার রাজনৈতিক জীবনের শিক্ষা নিয়ে জানতে চেয়েছি। অকপটে সব বলেছেন। কোন বইগুলো পড়া দরকার, নাম বলে দিয়েছেন। নিজের বই দিয়ে দিয়েছেন।

 

আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে এমন মানুষ বেশি পাবেন না, যিনি আপনার সঙ্গে বই নিয়ে কথা বলবেন, বা আপনাকে বই পড়তে দেবেন। কোন মানুষটা রাজনীতিকে কী মনে করেন, এই ছোট জিনিসগুলোতেই সেটা ধরা পড়ে।

আজ তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসলেন।

আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের সময়। এই পদটা সেই মুহূর্তগুলোর বড় বড় সংকটের কেন্দ্রে ছিল। আবার এই পদটাই কোনো কোনো সময়ে দেশকে স্থিতিশীলতা দিয়েছে। পার্থক্যটা তৈরি হয়েছে চেয়ারে বসা মানুষটার চরিত্র কেমন, তার উপর।

 

আমার বিশ্বাস ওনার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদটার সম্মান, মর্যাদা আর রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। মানুষটাকে যতটুকু জেনেছি, আশা রাখতে চাই।

আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না। বাংলাদেশের।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ বছর দায়িত্ব পালন করা ইমামকে রাজকীয় বিদায় দিলো এলাকাবাসী

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট

আপডেট সময় ১০:২৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এরপরই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। তার পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো

 

‘আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন।

 

সে বছর নির্বাচনের আগে উনি আমার মতো তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে ভিডিও করেছিলেন। শুরু করেছিলেন এভাবে, ‘আপনারা যারা এবারে প্রথম ভোট দেবেন, তাদেরকে আমি কিছু বলতে চাই।’

 

মানুষটা সুবক্তা। রাজনীতিতে আসার আগে শিক্ষক ছিলেন, কথা শুনলে সেটা বোঝা যেত। সবাই বলছিল ভোট চুরি হবে। উনি বলেছিলেন- কেন্দ্রে গিয়ে দেখিয়ে দিন ‘আপনারাই দেশের মালিক’, ‘ইউ ম্যাটার’।

ওনার কথা মনে করেই খিলগাঁওয়ে আমাদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলাম। সকালেই বুঝতে পারি কত বড় কারচুপি হচ্ছে।

 

 

এতো কিছুর পরও উনি নিজের আসনে জিতেছিলেন। কিন্তু সংসদে যান নাই। কারচুপির ভোটে গড়া সংসদে তিনি বসতে চান নাই।

 

ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দূরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না। বরং ক্ষমতার চেয়ার পেতে সব নীতি বিকিয়ে দেন। উনি এখানে অনন্য।

 

যে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, বার বার তাকে জেলে পাঠিয়েছে, তারা পনেরো বছরেও তার নামে দুর্নীতির একটা মামলা দাঁড় করাতে পারেন নাই।

 

রাজনীতিতে আসার পর অনেক প্রবীণ মানুষের পরামর্শ চেয়েছি, রাজনীতির ভেতরের এবং বাইরের। স্যারের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে, ওনার রাজনৈতিক জীবনের শিক্ষা নিয়ে জানতে চেয়েছি। অকপটে সব বলেছেন। কোন বইগুলো পড়া দরকার, নাম বলে দিয়েছেন। নিজের বই দিয়ে দিয়েছেন।

 

আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে এমন মানুষ বেশি পাবেন না, যিনি আপনার সঙ্গে বই নিয়ে কথা বলবেন, বা আপনাকে বই পড়তে দেবেন। কোন মানুষটা রাজনীতিকে কী মনে করেন, এই ছোট জিনিসগুলোতেই সেটা ধরা পড়ে।

আজ তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসলেন।

আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের সময়। এই পদটা সেই মুহূর্তগুলোর বড় বড় সংকটের কেন্দ্রে ছিল। আবার এই পদটাই কোনো কোনো সময়ে দেশকে স্থিতিশীলতা দিয়েছে। পার্থক্যটা তৈরি হয়েছে চেয়ারে বসা মানুষটার চরিত্র কেমন, তার উপর।

 

আমার বিশ্বাস ওনার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদটার সম্মান, মর্যাদা আর রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। মানুষটাকে যতটুকু জেনেছি, আশা রাখতে চাই।

আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না। বাংলাদেশের।’