ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কমিটমেন্টের সফল বাস্তবায়ন হবে: প্রেস সচিব ওসমান হাদির কবরে প্রতিদিন ক্ষমা চাইতে যান এক শহীদের বাবা নাতিকে টাকা ধার না দিতে দাদার মাইকিং গোয়ালন্দে তিন হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে বড় ভাইকে হত্যা: পুলিশ হালান্ডের নতুন লুকে প্রেমিকার আক্ষেপ, বললেন ‘কান্না পাচ্ছে’ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণাই সামরিকভাবে পরাজয়ের স্বীকারোক্তি: আইআরজিসি বিএনপি সরকারও ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে: ডা. শফিকুর রহমান চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় সেই তরুণী গ্রেফতার ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতার শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে: এটিএম আজহারুল ২০ বছর পর যে দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ওসমান হাদির কবরে প্রতিদিন ক্ষমা চাইতে যান এক শহীদের বাবা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

‘শহীদ হাদি হত্যার তদন্ত জমার তারিখ ১৯ বার পেছাল, তাহলে বিচার শুরু হবে কবে?’ এমন প্রশ্ন রেখেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আনাসের বাবা মো. শাহরিয়ার খান পলাশ। তিনি বলেন, ‘কিছু না করতে পেরে শুধু ক্ষমা চাইতে যাই হাদির (কবরের) কাছে, যদি আমাকে ও আনাসের মাকে ক্ষমা করে। আর বিচার চাই আল্লাহর কাছে, যেন হাদির সাথে ইনসাফ করে।’

 

‘শহীদ হাদি বারবার বলেছেন তার খুনির বিচারটা অন্তত কইরেন’, এমন মন্তব্য করে শাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, ‘আমাদের জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য, আগামী ভবিষ্যত প্রজন্ম জন্য, ইনসাফের লড়াই করতে গিয়ে, দেশের জন্য নিজের জীবন উৎর্সগ করেছেন শহীদ ওসমান হাদি।’

 

পরে প্রার্থনার ইমোজি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আল্লাহ হাদির সাথে ইনসাফ করেন।’

 

এর আগে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। সেখানে তিনি লেখেন, ‘গেইটের দায়িত্বে থাকা মামারা জানালেন, একজন ভদ্রলোক প্রতিদিন অফিস শুরু হওয়ার আগে হাদি ভাইয়ের কবর জিয়ারত করে যান। তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন, একজন শহীদের পিতা হিসেবে। শুনে ভীষণ কৌতূহল জাগল। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম, তিনি শহীদ আনাসের পিতা।’

 

জাবের মন্তব্য করেন, ‘একজন শহীদের পিতা প্রতিদিন আরেক শহীদের কবরের পাশে এসে দাঁড়ান। এই দৃশ্যের বেদনা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। রক্তের সম্পর্ক নেই, অথচ শাহাদাতের বন্ধনে তারা যেন একে অপরের আপনজন। কিছু শোক শুধু নিজের থাকে না, একসময় তা হয়ে ওঠে সবার শোক।’

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়েন এক দুর্বৃত্ত।

 

এ ঘটনার প্রধান আসামি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদ। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে হাদি ইন্তেকাল করেন। গত ২০ আগস্ট ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় ১৯ বারের মতো পেছানো হয়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

 

অপরদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গেন্ডারিয়ার বাসা থেকে গোপনে বেরিয়ে চানখাঁরপুলে আন্দোলনে যোগ দেওয়া দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস পুলিশের গুলিতে শাহাদাৎ বরণ করেন।

 

এদিন বাসা থেকে বের হবার আগে তার লেখা ‘মা আমি মিছিলে যাচ্ছি’খ্যাত চিঠিটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মারক হয়ে আছে। মায়ের উদ্দেশে লেখা ছোট আনাসের এই হৃদয়ছোঁয়া চিঠি কাঁদিয়েছে লক্ষ-কোটি জনতাকে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কমিটমেন্টের সফল বাস্তবায়ন হবে: প্রেস সচিব

ওসমান হাদির কবরে প্রতিদিন ক্ষমা চাইতে যান এক শহীদের বাবা

আপডেট সময় ০১:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

‘শহীদ হাদি হত্যার তদন্ত জমার তারিখ ১৯ বার পেছাল, তাহলে বিচার শুরু হবে কবে?’ এমন প্রশ্ন রেখেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আনাসের বাবা মো. শাহরিয়ার খান পলাশ। তিনি বলেন, ‘কিছু না করতে পেরে শুধু ক্ষমা চাইতে যাই হাদির (কবরের) কাছে, যদি আমাকে ও আনাসের মাকে ক্ষমা করে। আর বিচার চাই আল্লাহর কাছে, যেন হাদির সাথে ইনসাফ করে।’

 

‘শহীদ হাদি বারবার বলেছেন তার খুনির বিচারটা অন্তত কইরেন’, এমন মন্তব্য করে শাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, ‘আমাদের জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য, আগামী ভবিষ্যত প্রজন্ম জন্য, ইনসাফের লড়াই করতে গিয়ে, দেশের জন্য নিজের জীবন উৎর্সগ করেছেন শহীদ ওসমান হাদি।’

 

পরে প্রার্থনার ইমোজি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আল্লাহ হাদির সাথে ইনসাফ করেন।’

 

এর আগে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। সেখানে তিনি লেখেন, ‘গেইটের দায়িত্বে থাকা মামারা জানালেন, একজন ভদ্রলোক প্রতিদিন অফিস শুরু হওয়ার আগে হাদি ভাইয়ের কবর জিয়ারত করে যান। তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন, একজন শহীদের পিতা হিসেবে। শুনে ভীষণ কৌতূহল জাগল। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম, তিনি শহীদ আনাসের পিতা।’

 

জাবের মন্তব্য করেন, ‘একজন শহীদের পিতা প্রতিদিন আরেক শহীদের কবরের পাশে এসে দাঁড়ান। এই দৃশ্যের বেদনা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। রক্তের সম্পর্ক নেই, অথচ শাহাদাতের বন্ধনে তারা যেন একে অপরের আপনজন। কিছু শোক শুধু নিজের থাকে না, একসময় তা হয়ে ওঠে সবার শোক।’

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি ছোড়েন এক দুর্বৃত্ত।

 

এ ঘটনার প্রধান আসামি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদ। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে হাদি ইন্তেকাল করেন। গত ২০ আগস্ট ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় ১৯ বারের মতো পেছানো হয়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

 

অপরদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গেন্ডারিয়ার বাসা থেকে গোপনে বেরিয়ে চানখাঁরপুলে আন্দোলনে যোগ দেওয়া দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস পুলিশের গুলিতে শাহাদাৎ বরণ করেন।

 

এদিন বাসা থেকে বের হবার আগে তার লেখা ‘মা আমি মিছিলে যাচ্ছি’খ্যাত চিঠিটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মারক হয়ে আছে। মায়ের উদ্দেশে লেখা ছোট আনাসের এই হৃদয়ছোঁয়া চিঠি কাঁদিয়েছে লক্ষ-কোটি জনতাকে।