পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় বছর ধরে এক বিধবার ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তার নামে বরাদ্দ করা বিধবা ভাতার টাকা নিয়মিত ইউপি সদস্যের ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে তা উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালেক দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, বানেশ্বরপাড়া এলাকার রহিমা বেগম ২০২০ সালের জুলাইয়ে সর্বশেষ বিধবা ভাতার টাকা হাতে পান। এরপর সরকার জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা পাঠানো শুরু করলেও রহিমা আর কোনো টাকা পাননি।
দীর্ঘদিন পর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দ করা টাকা নিয়মিত একটি নগদ নম্বরে পাঠানো হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই নম্বরটি ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে খোলা।
সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রহিমা বেগমের নামে ওই নম্বরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গত মে মাসেও তার নামে ১ হাজার ৯৬১ টাকা পাঠানো হয়।
রহিমার অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ইউপি সদস্যের ভাই তার ছেলের কাছে ৭ হাজার টাকা দিয়ে যান এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে বলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক। তার দাবি, কীভাবে তার নম্বর ভাতার হিসাবে যুক্ত হলো, তা তিনি জানেন না। চার বছর আগে সিমটি হারিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি করেননি বলেও জানান তিনি।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহাও জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















