ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পরিবর্তে অর্থ সহায়তা চায় নেপাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর ৫১৭ বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকলেও বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।

দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেপালের নিজস্ব সেনাবাহিনী ও পুলিশই উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম বলে মনে করছে সরকার।

‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি উদ্ধারকারী দল না নিয়ে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে একক ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা চেয়েছে নেপাল। পুনর্গঠন পর্বে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা নেওয়া হবে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় ও ২৫ জন কানাডীয় নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীনা কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, অন্তত ১০০ চীনা নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

এদিকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালে নিজেদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ জানিয়েছিল। তবে এসব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে কাঠমান্ডু।

নেপালের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকারী দল একসঙ্গে কাজ করায় সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার বিদেশি উদ্ধারকারী দল না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে বিদেশি নাগরিকদের সহায়তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি জরুরি সাড়া দল গঠন করেছে। নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত, তথ্য যাচাই, উদ্ধার সমন্বয় এবং কনস্যুলার সহায়তায় কাজ করছে দলটি। পাশাপাশি নির্ধারিত হটলাইন ও ই-মেইলে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য দিতে স্বজন ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে নেপালকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ৪৭ দশমিক ৫ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং বেইলি সেতু ও ট্রাস সেতু পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বিশ্বব্যাংকও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক জানিয়েছে, জরুরি সহায়তার পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো তৈরিতেও নেপালকে সহযোগিতা করবে।

তবে বিদেশি উদ্ধারকারী দল প্রত্যাখ্যান করলেও আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণে নেপালের দরজা খোলা রয়েছে। আপাতত নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী দিয়েই উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পরিবর্তে অর্থ সহায়তা চায় নেপাল

আপডেট সময় ০৪:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর ৫১৭ বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকলেও বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।

দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নেপালের নিজস্ব সেনাবাহিনী ও পুলিশই উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম বলে মনে করছে সরকার।

‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি উদ্ধারকারী দল না নিয়ে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে একক ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা চেয়েছে নেপাল। পুনর্গঠন পর্বে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা নেওয়া হবে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় ও ২৫ জন কানাডীয় নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীনা কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, অন্তত ১০০ চীনা নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

এদিকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালে নিজেদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ জানিয়েছিল। তবে এসব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে কাঠমান্ডু।

নেপালের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকারী দল একসঙ্গে কাজ করায় সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার বিদেশি উদ্ধারকারী দল না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে বিদেশি নাগরিকদের সহায়তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি জরুরি সাড়া দল গঠন করেছে। নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত, তথ্য যাচাই, উদ্ধার সমন্বয় এবং কনস্যুলার সহায়তায় কাজ করছে দলটি। পাশাপাশি নির্ধারিত হটলাইন ও ই-মেইলে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য দিতে স্বজন ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে নেপালকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ৪৭ দশমিক ৫ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং বেইলি সেতু ও ট্রাস সেতু পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বিশ্বব্যাংকও আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক জানিয়েছে, জরুরি সহায়তার পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো তৈরিতেও নেপালকে সহযোগিতা করবে।

তবে বিদেশি উদ্ধারকারী দল প্রত্যাখ্যান করলেও আন্তর্জাতিক সহায়তা গ্রহণে নেপালের দরজা খোলা রয়েছে। আপাতত নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী দিয়েই উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।