ঢাকা , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিজয়ী হওয়ার আশা জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ারের মুসলিম প্রতিবেশীকে ওমরাহ করার সুযোগ করে দিতে কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিজয়ী খ্রিস্টান যুবক মক্কা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ ভারত ‘বিশ্বগুরু’, ভারতীয়দের দেখলে মানুষ নমস্কার করে: আরএসএস প্রধান সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব জানাজার নামাজ পড়ানোর সময় ইমামের মোটরসাইকেল চুরি ইমরান খানের মুক্তি ও চিকিৎসা দাবি জানালেন পাইলট সব পাপ ধুয়েমুছে আল্লাহ-খোদার নাম নিয়ে মরতে চাই: নায়িকা পপি ‘আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে’ মৃত্যুর আগে আলিফের আকুতি লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি করে বাবার আইফোন কেনা, সেই শিশুপুত্র উদ্ধার

লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি করে বাবার আইফোন কেনা, সেই শিশুপুত্র উদ্ধার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

এবার পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগে মো. মারুফ মুন্সি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদাদাদির জিম্মায় দেওয়া হয়। এর আগে, এদিন সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগীসানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মুন্সিকে আটক করে দশমিনা থানা পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেনএমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা ও শিশুটির দাদি মাহমুদা বেগমকে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। এরপর বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাবাছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরবর্তীতে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে মারুফ স্বীকার করেন, তিনি ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তান বিক্রির টাকা নিয়ে মারুফ দ্রুত ঢাকায় চলে যান এবং পুরোনো ফোন বদলে একটি নতুন আইফোন কেনেন। এদিন সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযুক্ত বাবা মারুফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সন্তান বিক্রির কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইমরানকে থানায় ডেকে এনে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।  পরে ইমরান স্বীকার করেন, শিশুটিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তার শ্বশুর মাহাবুব গাজীর বাড়িতে রাখা হয়েছে। রাত ১০টার দিকে ইমরানের শ্বশুর মাহাবুব গাজী শিশু মুসাকে দশমিনা থানায় নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে দশমিনা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিজয়ী হওয়ার আশা জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ারের

লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি করে বাবার আইফোন কেনা, সেই শিশুপুত্র উদ্ধার

আপডেট সময় ১০:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

এবার পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগে মো. মারুফ মুন্সি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদাদাদির জিম্মায় দেওয়া হয়। এর আগে, এদিন সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগীসানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মুন্সিকে আটক করে দশমিনা থানা পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেনএমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা ও শিশুটির দাদি মাহমুদা বেগমকে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। এরপর বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাবাছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরবর্তীতে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে মারুফ স্বীকার করেন, তিনি ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তান বিক্রির টাকা নিয়ে মারুফ দ্রুত ঢাকায় চলে যান এবং পুরোনো ফোন বদলে একটি নতুন আইফোন কেনেন। এদিন সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযুক্ত বাবা মারুফকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সন্তান বিক্রির কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইমরানকে থানায় ডেকে এনে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।  পরে ইমরান স্বীকার করেন, শিশুটিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তার শ্বশুর মাহাবুব গাজীর বাড়িতে রাখা হয়েছে। রাত ১০টার দিকে ইমরানের শ্বশুর মাহাবুব গাজী শিশু মুসাকে দশমিনা থানায় নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে দশমিনা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।