ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশ দোকানে ডাকাতি: প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার মেসির প্রশংসায় বিনয়ী মেদিনা, বললেন—‘অধিনায়কের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত’ অপারেশন সিঁদুর: নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশ ভারতের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় পাশে থাকবে চীন শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে কমিটি, এক মাসের মধ্যে সুপারিশ সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে এক গ্রাম সোনার আংটি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ইরান নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা না নিলে এমপি পদ ছাড়ব, গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লংমার্চের হুঁশিয়ারি

পদত্যাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙনের সুর, নেতৃত্ব ছাড়লেন রাশেদ খান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার আহ্বায়ক রাশেদ খান হঠাৎ করে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুলাই) রাত ২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন। রাশেদ লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার আহ্বায়ক পদ থেকে আমি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিচ্ছি। একই সঙ্গে এনসিপি ও এর ছাত্র কিংবা যুব উইংয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার। কেউ কেউ হতবাক, কেউ ক্ষুব্ধ, কেউবা উদ্বিগ্ন। কারণ, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে যখন দেশজুড়ে মোমবাতি প্রজ্বালন চলছে, তখন এই পদত্যাগ আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।

রাশেদের ঘনিষ্ঠ এক সহকর্মী জানান, ফেসবুকে পদত্যাগ ঘোষণার পর রাশেদ ইনবক্সে তাকে লেখেন, ‘সারাক্ষণ কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি। এসব আর ভালো লাগছে না।’ এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে দীর্ঘদিনের দলে অসন্তোষ, বিভাজন ও অন্তর্কলহই হয়তো তার পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ।

রাশেদ খান ছিলেন কোটা আন্দোলনের সময় যশোরে ছাত্রদের নেতৃত্বে অগ্রভাগে থাকা একজন সংগঠক। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বাম ঘরানার রাজনীতি থেকে উঠে এসে গত বছর ২৬ নভেম্বর গঠিত ১০১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটির আহ্বায়ক হন। তবে এই কমিটির শুরু থেকেই ছিলো দ্বন্দ্ব আর বিভাজন। ঘোষণার পরদিনই যুগ্ম আহ্বায়ক-১ মাসুম বিল্লাহ পদত্যাগ করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে আরও সাতজন নেতা পদত্যাগ করেন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে।

এরপর চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সদস্যসচিব জেসিনা মোর্শেদ প্রাপ্তিকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশিত অনেক কর্মসূচিতেও যশোরের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতি, অনীহা এবং বিভ্রান্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদের এই পদত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি যশোর জেলা কমিটির গভীর সংকটেরই প্রতিফলন। নেতাকর্মীদের একাংশ বলছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই রাশেদের অনুসারী আরও ডজনখানেক নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করতে পারেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পদত্যাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙনের সুর, নেতৃত্ব ছাড়লেন রাশেদ খান

আপডেট সময় ০৯:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার আহ্বায়ক রাশেদ খান হঠাৎ করে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ জুলাই) রাত ২টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন। রাশেদ লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলার আহ্বায়ক পদ থেকে আমি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিচ্ছি। একই সঙ্গে এনসিপি ও এর ছাত্র কিংবা যুব উইংয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার। কেউ কেউ হতবাক, কেউ ক্ষুব্ধ, কেউবা উদ্বিগ্ন। কারণ, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে যখন দেশজুড়ে মোমবাতি প্রজ্বালন চলছে, তখন এই পদত্যাগ আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।

রাশেদের ঘনিষ্ঠ এক সহকর্মী জানান, ফেসবুকে পদত্যাগ ঘোষণার পর রাশেদ ইনবক্সে তাকে লেখেন, ‘সারাক্ষণ কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি। এসব আর ভালো লাগছে না।’ এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে দীর্ঘদিনের দলে অসন্তোষ, বিভাজন ও অন্তর্কলহই হয়তো তার পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ।

রাশেদ খান ছিলেন কোটা আন্দোলনের সময় যশোরে ছাত্রদের নেতৃত্বে অগ্রভাগে থাকা একজন সংগঠক। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী বাম ঘরানার রাজনীতি থেকে উঠে এসে গত বছর ২৬ নভেম্বর গঠিত ১০১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটির আহ্বায়ক হন। তবে এই কমিটির শুরু থেকেই ছিলো দ্বন্দ্ব আর বিভাজন। ঘোষণার পরদিনই যুগ্ম আহ্বায়ক-১ মাসুম বিল্লাহ পদত্যাগ করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে আরও সাতজন নেতা পদত্যাগ করেন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে।

এরপর চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সদস্যসচিব জেসিনা মোর্শেদ প্রাপ্তিকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশিত অনেক কর্মসূচিতেও যশোরের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতি, অনীহা এবং বিভ্রান্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদের এই পদত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি যশোর জেলা কমিটির গভীর সংকটেরই প্রতিফলন। নেতাকর্মীদের একাংশ বলছে, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই রাশেদের অনুসারী আরও ডজনখানেক নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করতে পারেন।