ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৪৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যা যুদ্ধের ইতিহাসে যেকোনো সংঘাতের তুলনায় সর্বাধিক।
শুক্রবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধে দায়মুক্তি অবসানের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এ তথ্য জানান।
দুজারিক বলেন, সাংবাদিক হত্যার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটনাই অমীমাংসিত থেকে গেছে। গাজা এখন সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যখন সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়, তখন আমরা সবাই আমাদের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলি।”
জাতিসংঘ মহাসচিব অন্তোনিও গুতেরেস সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়মুক্তি শুধু সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকেই নয়, গণতন্ত্রকেও হুমকির মুখে ফেলে।
গাজার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দুজারিক বলেন, নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেলেও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী এসব হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, পুরো খাতটি এখন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১,৭০০ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, সংঘাতে এ পর্যন্ত ২২৪ জনের বেশি মানবাধিকার কর্মী নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা অনুযায়ী অস্ত্রবিরতি চলছে। তবে ইসরায়েল একাধিকবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং দেড় লাখের বেশি আহত হয়েছেন। ইউনিসেফ জানিয়েছে, এ যুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত এবং ৪২ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

