ঢাকা , মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সড়কবাতির প্রযুক্তি শিখতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক প্যান্টে বসলো রানি মৌমাছি, মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে চাক বাঁধলো মৌমাছির ঝাঁক! পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর গরু পশু নয়, আমাদের মা: মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের যোগী আদিত্যনাথ আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে মৌমাছির কামড়ে সমর্থক আহত মোহাম্মদপুরে বাসার গেটে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা একাই গিলে খাচ্ছেন জনগণের সকল বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা একাই গিলে খাচ্ছেন জনগণের সকল বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা বাসার গেটের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারী, গ্রেফতার ২ জামায়াত দেশের দায়িত্ব নিতে চায়: আযাদ

গরু পশু নয়, আমাদের মা: মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের যোগী আদিত্যনাথ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে গরুকে একটি সাধারণ প্রাণী হিসেবে নয়, বরং মায়ের মর্যাদায় দেখা হয়। তিনি মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন গরুর প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান না দেখাতে তাদের অনুসারীদের সতর্ক করেন। সোমবার (১ জুন) বিজনৌরে একটি সরকারি কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ধর্মীয় নেতা ও গণআন্দোলনে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবির প্রসঙ্গ তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি।

 

গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে মুসলিম আলেম ও সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি। বলেন, ‘একজন সন্তানকে তার মাকে সম্মান করতে আলাদা করে শেখাতে হয় না। মানুষ মা এবং গরু—দু’টিকেই একইভাবে শ্রদ্ধা করে। যারা গরুকে শুধু পশু বলে, তারা গ-হত্যা সমর্থন করে।’

 

যোগী আরও সতর্ক করে বলেন, উত্তর প্রদেশে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর ছবি দিয়ে কুরবানির ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকে, যা থেকে বিরত থাকতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা রাখা উচিত।

 

তিনি বলেন, ‘বিভাজনের সময় ধর্মীয় উগ্রতার কারণে এসব পরিবারের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি দখল হয়ে যায় এবং হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালানো হয়। বহু বছর পর এখন তাদের উত্তরসূরিরা জমির মালিকানা পাচ্ছেন।’

 

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সনদ প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের উপকারে আসবে এবং বাকি যোগ্য পরিবারগুলোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার পরিবারের পক্ষে ধর্মীয় নেতারা কেন কথা বলেননি।

 

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কিছু ধর্মীয় নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায়ও নীরব ছিলেন। তাদের উচিত ছিল পাকিস্তানকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা এবং ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানো।’

 

তিনি দাবি করেন, আগে পশ্চিম উত্তর প্রদেশে রাম নবমী, জন্মাষ্টমী, দুর্গা পূজা ও কাঁওয়ার যাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব আয়োজনেও বাধা সৃষ্টি হতো এবং নারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বাস্তুচ্যুত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।’ তিনি বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাও করেন যোগী আদিত্যনাথ। বলেন, ‘তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকে সমর্থন করে এই আইনটির বিরোধিতা করেছে।’

 

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়কবাতির প্রযুক্তি শিখতে ফ্রান্সে যাচ্ছেন রাসিক প্রশাসক

গরু পশু নয়, আমাদের মা: মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের যোগী আদিত্যনাথ

আপডেট সময় ১১:২৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে গরুকে একটি সাধারণ প্রাণী হিসেবে নয়, বরং মায়ের মর্যাদায় দেখা হয়। তিনি মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন গরুর প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান না দেখাতে তাদের অনুসারীদের সতর্ক করেন। সোমবার (১ জুন) বিজনৌরে একটি সরকারি কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ধর্মীয় নেতা ও গণআন্দোলনে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবির প্রসঙ্গ তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি।

 

গরুকে জাতীয় পশু হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে মুসলিম আলেম ও সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনাও করেন তিনি। বলেন, ‘একজন সন্তানকে তার মাকে সম্মান করতে আলাদা করে শেখাতে হয় না। মানুষ মা এবং গরু—দু’টিকেই একইভাবে শ্রদ্ধা করে। যারা গরুকে শুধু পশু বলে, তারা গ-হত্যা সমর্থন করে।’

 

যোগী আরও সতর্ক করে বলেন, উত্তর প্রদেশে গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুর ছবি দিয়ে কুরবানির ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকে, যা থেকে বিরত থাকতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা রাখা উচিত।

 

তিনি বলেন, ‘বিভাজনের সময় ধর্মীয় উগ্রতার কারণে এসব পরিবারের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি দখল হয়ে যায় এবং হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালানো হয়। বহু বছর পর এখন তাদের উত্তরসূরিরা জমির মালিকানা পাচ্ছেন।’

 

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সনদ প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের উপকারে আসবে এবং বাকি যোগ্য পরিবারগুলোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার পরিবারের পক্ষে ধর্মীয় নেতারা কেন কথা বলেননি।

 

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কিছু ধর্মীয় নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায়ও নীরব ছিলেন। তাদের উচিত ছিল পাকিস্তানকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা এবং ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানো।’

 

তিনি দাবি করেন, আগে পশ্চিম উত্তর প্রদেশে রাম নবমী, জন্মাষ্টমী, দুর্গা পূজা ও কাঁওয়ার যাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব আয়োজনেও বাধা সৃষ্টি হতো এবং নারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) বাস্তুচ্যুত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।’ তিনি বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাও করেন যোগী আদিত্যনাথ। বলেন, ‘তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকে সমর্থন করে এই আইনটির বিরোধিতা করেছে।’

 

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস