ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জিপিএস ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালান ইরানি পাইলটরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ড. ইউনূসের চেয়ে ‘হাজারগুণ ভালো’ দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী সকাল না হতেই মর্মান্তিক দুই দুর্ঘটনা, ঝরে গেল ১৫ প্রাণ মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা না করে, তাই জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করলেন বৃদ্ধ অন্ধকারে মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের সিঙ্গারার লোভ দেখিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিলেন যুবলীগ নেতা মসজিদের ইমামকে ওমরাহ উপহার, আবেগে ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত ইরান যুদ্ধ ‘খুব শিগগির’ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

নিশানায় ছিলেন শুভেন্দু, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাবি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৬ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের দাবি, তাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নজরদারি এবং বড় ধরনের নাশকতামূলক পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দিন আগে পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। এসটিএফের অভিযোগ, তিনি পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছিলেন।

এসটিএফের মহাপরিদর্শক (আইজি) গৌরব শর্মা জানান, হামিমকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের পোশাক পরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার দুর্বলতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা।

জিজ্ঞাসাবাদে হামিমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় জইশ-ই-মোহাম্মদের একাধিক হ্যান্ডলারের যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ। আদালত তাকে ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় হামিমের ঘনিষ্ঠ পরিচিত অর্পিতা সরকারকেও ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি চক্রের নির্দেশে তারা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করছিল।

এসটিএফের দাবি, অর্পিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে হামিমের কাছে পাঠাতেন। তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে পাকিস্তানভিত্তিক যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

তদন্তে হামিম ও অর্পিতার কাছ থেকে যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকোর ইস্যু করা আন্তর্জাতিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এসটিএফের ধারণা, এসব সিম ব্যবহার করে তারা এনক্রিপটেড মাধ্যমে বিদেশে থাকা হ্যান্ডলার ও স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

এ ছাড়া হামিমের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই তিনি উগ্রবাদে প্রভাবিত হন এবং পরে পাকিস্তানভিত্তিক অপারেটিভদের হয়ে কাজ শুরু করেন।

এসটিএফ জানিয়েছে, ‘রানা’, ‘উজাইর’, ‘আবিদ জাট ৩৩৩’ ও ‘হামাদ’ নামে কয়েকজনকে শাহজাদ ভাট্টি চক্রের হ্যান্ডলার হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ, জঙ্গি নিয়োগ এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি, সম্ভাব্য সহযোগী এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের তদন্ত সংস্থাগুলো।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জিপিএস ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালান ইরানি পাইলটরা

নিশানায় ছিলেন শুভেন্দু, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চাঞ্চল্যকর দাবি

আপডেট সময় ০২:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের দাবি, তাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি নজরদারি এবং বড় ধরনের নাশকতামূলক পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দিন আগে পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। এসটিএফের অভিযোগ, তিনি পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছিলেন।

এসটিএফের মহাপরিদর্শক (আইজি) গৌরব শর্মা জানান, হামিমকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের পোশাক পরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার দুর্বলতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা।

জিজ্ঞাসাবাদে হামিমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় জইশ-ই-মোহাম্মদের একাধিক হ্যান্ডলারের যোগাযোগের তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ। আদালত তাকে ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় হামিমের ঘনিষ্ঠ পরিচিত অর্পিতা সরকারকেও ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি চক্রের নির্দেশে তারা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করছিল।

এসটিএফের দাবি, অর্পিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে হামিমের কাছে পাঠাতেন। তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে পাকিস্তানভিত্তিক যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

তদন্তে হামিম ও অর্পিতার কাছ থেকে যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকোর ইস্যু করা আন্তর্জাতিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এসটিএফের ধারণা, এসব সিম ব্যবহার করে তারা এনক্রিপটেড মাধ্যমে বিদেশে থাকা হ্যান্ডলার ও স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

এ ছাড়া হামিমের মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই তিনি উগ্রবাদে প্রভাবিত হন এবং পরে পাকিস্তানভিত্তিক অপারেটিভদের হয়ে কাজ শুরু করেন।

এসটিএফ জানিয়েছে, ‘রানা’, ‘উজাইর’, ‘আবিদ জাট ৩৩৩’ ও ‘হামাদ’ নামে কয়েকজনকে শাহজাদ ভাট্টি চক্রের হ্যান্ডলার হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধকরণ, জঙ্গি নিয়োগ এবং মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি, সম্ভাব্য সহযোগী এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের তদন্ত সংস্থাগুলো।