বকশীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগরের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর। হত্যা মামলার আসামি এবং ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগ থাকা ভাইকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেছেন, নজরুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে। দলের ভেতরের বিরোধীদেরও দিয়েছেন সতর্কবার্তা এখনো যারা ভালো হননি, দ্রুত ভালো হয়ে যান।’
গত মঙ্গলবার বকশীগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় দেওয়া এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন মহলে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
নজরুল ইসলাম সওদাগর এক সময় উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১২ জুন তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে তাকে বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক করা হয়।
তার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনটি হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া গত ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
নজরুলের বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বকশীগঞ্জের খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে নজরুল কয়েকজন সহযোগীসহ উপস্থিত হন।
বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান, জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি নজরুলের গ্রেপ্তারের দাবিতে বকশীগঞ্জ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মিছিল শেষে থানায় স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। পরে ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরার সাঙ্গাম মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। একাধিক মামলায় সাত মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















