মৌসুমি হাওয়ার দিক বদল ও ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে মাঠে পানি, বিপাকে কৃষক
মৌসুমি হাওয়ার দিক পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় মোন্থা’র প্রভাবে অকাল বৃষ্টি ঝরছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা। দিনাজপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার মাঠে দেখা দিয়েছে ফসলহানির শঙ্কা। কোথাও হাঁটুজলে আলু কুড়ানো, কোথাও পাকা ধান নুয়ে পড়া কিংবা সবজির শিকড়ে পচন—সব মিলিয়ে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
হাঁটুজলে আলু কুড়াচ্ছেন কৃষক
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার শ্রীকৃষ্টপুর ও ভদ্রকালী এলাকায় হাঁটু সমান কাদাপানিতে নেমে কৃষকেরা কুড়াচ্ছেন সদ্য রোপণ করা বীজ আলু। উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৫১৩ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ হয়েছে। মৌসুমে ৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য থাকলেও টানা বৃষ্টিতে তা এখন ঝুঁকিতে।
নওগাঁয় বৃষ্টিতে বছরের শ্রম পণ্ড হওয়ার শঙ্কা
অসময়ের বৃষ্টিতে নওগাঁয় ধান ও সবজি চাষে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। জেলায় ১ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টরে আমন ধান, ১ হাজার ৮৪৫ হেক্টরে সবজি এবং ২১ হাজার হেক্টরে আলু চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।
জয়পুরহাটে পাকা ধান ও সবজির ক্ষতি
জয়পুরহাটে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে নিচু এলাকার পাকা আমন ধান ও আগাম সবজির ক্ষতি হয়েছে। বাতাসে ধান নুয়ে পড়েছে, অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।
বগুড়ায় নুয়ে পড়েছে পাকা ধান
বগুড়ার নন্দীগ্রামে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ঘরে তোলার আগেই ধান ডোবে যাওয়ায় চাষিদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা। এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তার চেয়ে বেশি জমিতে চাষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাণীনগর–আত্রাইয়ে তিন হাজার বিঘা ফসল ঝুঁকিতে
নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলায় দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে প্রায় তিন হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতির মুখে। এর মধ্যে আমন ধান, রবি শস্য ও সবজি উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৩৯৮ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
শুঁটকি চাতালে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি
এদিকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বৃষ্টিতে শুঁটকি উৎপাদনও থমকে গেছে। চলনবিলাঞ্চলে শুকাতে দেওয়া প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ মণ আধা শুকনো শুঁটকি ও মজুত মাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ৩০–৩২ জন চাতাল মালিকের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বৃষ্টিপাত দ্রুত কমে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব। তবে দীর্ঘস্থায়ী হলে উত্তরাঞ্চলের শস্য উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























