চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কৃষকদের। উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের কৃষক শামিম আহমেদ দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে ইতোমধ্যে বিক্রি করেছেন সাড়ে তিন হাজার লাউ। এতে আয় হয়েছে এক লাখ ৭৮ হাজার টাকা। ৪০ হাজার টাকা খরচ বাদ দিয়ে তিন লাখ টাকার লাভের আশা করছেন তিনি।
শামিমের মতো আরও অনেক কৃষক এবার কুমারখালীতে মোট ৭৩৬ হেক্টর জমিতে লাউ, করলা, শিম, মুলা, লালশাকসহ নানা জাতের আগাম সবজি চাষ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এসব জমিতে প্রায় ১৭ হাজার টন সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য ৭৬ থেকে ৮০ কোটি টাকা। গত বছর এই উপজেলায় শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছিল ৭১৬ হেক্টর জমিতে।
জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে কুমারখালী
ছয় উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া জেলায় এবার সর্বাধিক সবজি চাষ হয়েছে সদর উপজেলায়—এক হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুমারখালী, যেখানে ৭৩৬ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে।
লিডার জাতের করলায় লাখ টাকার আয়
চাঁদপুর ইউনিয়নের ধলনগর গ্রামের কৃষক ওমর ফারুক ৪৯ শতাংশ জমিতে লিডার জাতের করলা চাষ করে গত দুই মাসে প্রায় দেড়শ মণ করলা তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচে তিনি চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকার করলা বিক্রির আশা করছেন।
আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে চাষ
যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর, বাগুলাট ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে খড়, পাতা বা প্লাস্টিক শিট দিয়ে মাটির ওপর ঢেকে রাখা হয়, যা মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে, আগাছা দমন করে ও উর্বরতা বাড়ায়। গত বছর ১৫ শতাংশ জমিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার হলেও এবার তা বেড়ে ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
যদুবয়রার হাঁসদিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম কলা চাষ ছেড়ে এখন লালশাকে সফল। তিনি এক বিঘা জমিতে আবাদ করে দেড় মাসে ২৪ হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছেন। মিরপুর গ্রামের গোলাম রসুল ১০ শতাংশ জমিতে করলার আবাদ করে দেড় লাখ টাকার ফসলের আশা করছেন।
ফুলকপিতেও লাভবান কৃষকরা
ধলনগর গ্রামের কৃষক মোহন হোসেন ৩৬ শতাংশ জমিতে ডন–১২৫ জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে দুই হাজার ফুলকপি বিক্রি করে পেয়েছেন ৭০ হাজার টাকা, খরচ মাত্র দুই হাজার।
বিক্রিতে নেই কোনো ঝামেলা
কুমারখালী পৌরসভা ও পান্টি তহবাজারে অন্তত ১৪টি সবজি আড়ত রয়েছে। প্রতিদিন এসব বাজারে ৩০ থেকে ৩২ হাজার কেজি সবজি বেচাকেনা হয়, যার বাজারমূল্য ১৮ থেকে ২২ লাখ টাকা।
পান্টি তহবাজারের আড়তদার মিলন হোসেন জানান, প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার কেজি সবজি বিক্রি হয়, আর কুমারখালী পৌর তহবাজারে বিক্রি হয় আরও ২০ থেকে ২২ হাজার কেজি।
কৃষকের পাশে প্রশাসন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম বলেন, অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এ বছর ৭৩৬ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৭ হাজার টন আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষকের পাশে থাকতে হবে। আমরা নিয়মিত প্রণোদনা, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”

ডেস্ক রিপোর্ট 

























