ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মানবতার স্বার্থে পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান মোদির নতুন পে স্কেল হওয়াতে বেতন অনেক বেশি বাড়বে, তেমনটা নয়: তথ্য উপদেষ্টা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ নেতানিয়াহু সরকারকে আর একটি পয়সাও নয়: মার্কিন সিনেটর তিস্তা মহাপ্রকল্পের পাশাপাশি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ গাজায় ফের ইসরায়েলি বিমান হা’ম’লা, নি’হ’ত অন্তত ৫ গণঅভ্যুত্থানে গুলিতে প্রাণ হারানো বন্ধুর স্মৃতি হ্যান্ডমাইক তুলে দিলেন নাহিদের হাতে জনগণকে বিদেশ ভ্রমণ, স্বর্ণ কেনা ও দেশের বাইরে বিয়ে করতে না করলেন মোদি ইরাকের কাছে ৮০ কোটি ডলারের হেলিকপ্টার বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্র আজ মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বঙ্গবীর সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতার মনোনয়ন বাতিলের পর হাততালি দিলেন সরকারি কর্মকর্তারা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৭২ বার পড়া হয়েছে

এবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের জামায়াত মনোনীত ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তার দাবি, সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনের পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।

গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রভাব ও তাদের সহযোগীরা সক্রিয় রয়েছে। সেই প্রভাবের ফলেই তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর কিছু কর্মকর্তার হাততালির প্রসঙ্গ টেনে ড. আযাদ বলেন, দায়িত্বে থেকে যারা এমন আচরণ করেন, তারা কখনো নিরপেক্ষ হতে পারেন না। এতে প্রমাণ হয়, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির অনুসারীরা সক্রিয়।

ড. আযাদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ের সাজানো ও মিথ্যা মামলাকে সামনে রেখে মনোনয়ন বাতিল করা সম্পূর্ণ অন্যায়। তাঁর হলফনামায় ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের কোনো অভিযোগ নেই। তা সত্ত্বেও ২০১৩ সালের একটি আদালত অবমাননার মামলাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।

আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, সেটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ওই আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল, যা ক্রিমিনাল মামলার আওতায় পড়ে না। তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও একই বিষয় উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনার পর রিটার্নিং অফিসার সেটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি প্রায় দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. আযাদের মতে, সাজা থাকা সত্ত্বেও সংসদে দায়িত্ব পালনকালে আদালত কিংবা সংসদ—কোনো পক্ষই এটিকে নৈতিক বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। একই মামলার ভিত্তিতে এবার মনোনয়ন বাতিল করা একটি নজিরবিহীন ও অন্যায্য সিদ্ধান্ত। প্রশাসনের আচরণ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, যাচাই-বাছাইয়ের বিরতির সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে নতুন একটি পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ড লঙ্ঘন করে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশবাসী একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রশ্নহীন নির্বাচন প্রত্যাশা করে। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরে দলীয় প্রভাব, পক্ষপাত এবং পুরোনো রাজনৈতিক মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কিত হয়ে উঠবে। সতর্ক করে তিনি বলেন, পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ না হলে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না করা হলে আসন্ন নির্বাচন জাতির জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবতার স্বার্থে পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান মোদির

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতার মনোনয়ন বাতিলের পর হাততালি দিলেন সরকারি কর্মকর্তারা

আপডেট সময় ১০:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

এবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের জামায়াত মনোনীত ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তার দাবি, সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে, যা প্রশাসনের পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।

গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রভাব ও তাদের সহযোগীরা সক্রিয় রয়েছে। সেই প্রভাবের ফলেই তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর কিছু কর্মকর্তার হাততালির প্রসঙ্গ টেনে ড. আযাদ বলেন, দায়িত্বে থেকে যারা এমন আচরণ করেন, তারা কখনো নিরপেক্ষ হতে পারেন না। এতে প্রমাণ হয়, প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির অনুসারীরা সক্রিয়।

ড. আযাদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ের সাজানো ও মিথ্যা মামলাকে সামনে রেখে মনোনয়ন বাতিল করা সম্পূর্ণ অন্যায়। তাঁর হলফনামায় ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের কোনো অভিযোগ নেই। তা সত্ত্বেও ২০১৩ সালের একটি আদালত অবমাননার মামলাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।

আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, সেটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ওই আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল, যা ক্রিমিনাল মামলার আওতায় পড়ে না। তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও একই বিষয় উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনার পর রিটার্নিং অফিসার সেটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি প্রায় দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. আযাদের মতে, সাজা থাকা সত্ত্বেও সংসদে দায়িত্ব পালনকালে আদালত কিংবা সংসদ—কোনো পক্ষই এটিকে নৈতিক বা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। একই মামলার ভিত্তিতে এবার মনোনয়ন বাতিল করা একটি নজিরবিহীন ও অন্যায্য সিদ্ধান্ত। প্রশাসনের আচরণ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, যাচাই-বাছাইয়ের বিরতির সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে নতুন একটি পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ড লঙ্ঘন করে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশবাসী একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রশ্নহীন নির্বাচন প্রত্যাশা করে। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরে দলীয় প্রভাব, পক্ষপাত এবং পুরোনো রাজনৈতিক মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কিত হয়ে উঠবে। সতর্ক করে তিনি বলেন, পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ না হলে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না করা হলে আসন্ন নির্বাচন জাতির জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে পারে।