শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে বাংলাদেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স (৩ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শ্রমিকদের জোর করে কাজ করানোর কারণে বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির ওপর শুল্ক বসানো হবে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (ইউএসটিআর) প্রস্তাব দিয়েছে।
বাণিজ্য প্রতিনিধি অফিস বলেছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম বন্ধের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে সেসব দেশের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিছু দেশের ওপর এ শুল্ক ১২ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হবে। আর প্রস্তাবে বাংলাদেশের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সব দেশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই তালিকায় বাংলাদেশও আছে। পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, চীন, শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান, ওমান, জাপান, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, জর্ডান, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও অনেক দেশ রয়েছে।
ইউএসটিআর এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে বলছে, ৬০টি দেশের কিছু নীতি ও কাজ যুক্তরাষ্ট্রের মতে ঠিক নয়। তাদের অভিযোগ, এসব দেশের নীতি ‘অযৌক্তিক’ এবং এগুলো মার্কিন বাণিজ্যের জন্য বাধা তৈরি করছে। এই কারণেই ওয়াশিংটন বলছে, ওই দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়া তাদের আইন অনুযায়ী বৈধ ও প্রয়োজনীয় হতে পারে।
ইউএসটিআর-এর মতে, জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধ করার নিয়ম ঠিকভাবে না মানার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি দেশের একটি তালিকা করেছে। অর্থাৎ এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা যথেষ্ট কাজ করছে না; এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আমেরিকান শ্রমিকদের বিশ্ববাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে, যেখানে তারা সমান সুযোগ ছাড়াই লড়তে বাধ্য হচ্ছে।
এর আগে গত ১২ মার্চ ইউএসটিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা অনুযায়ী নতুন এ তদন্ত করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এতে দেখা হবে, জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারে উৎপন্ন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত বা বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে যাচাই করা হবে, এসব নীতি বা অনুশীলন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না।
প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, এর মাধ্যমে মূলত ট্রাম্পের জরুরি শুল্ক কাঠামোকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় এসেই বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির আদালত এ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেন।
আদালত বলেছিলেন, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ঢালাওভাবে কোনও শুল্ক আরোপ করতে পারে না। এরপর ট্রাম্পের সরকার আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। কিন্তু তার আগেই এখন নতুন কৌশলে শুল্ক আরোপের দিকে এগোচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















