ঢাকা , বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ক্ষমা চেয়ে জাতীয় পার্টিতে ফিরেছেন মসিউর রহমান রাঙ্গা, করবেন নির্বাচন কোনো সরকারই আলেমদের হত্যার বিচার করেনি উপকার হবে জানিয়ে ২০ দিন আগে হাদির অফিসে কবিরকে নিয়ে যান ফয়সাল হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত ৩ অস্ত্র উদ্ধার, শুটার ফয়সালের বাবা গ্রেপ্তার প্রস্তুত তারেক রহমানের বাসভবন ও অফিস হাদির দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা নেই, লম্বা সময় থাকতে হতে পারে আইসিইউতে: ডা. রাফি ব্রেনের ফোলা কমেনি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওসমান হাদি: চিকিৎসক হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, অপারেশনের অপেক্ষায় ডাক্তাররা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক ফয়াসলই আমাকে হাদির কাছে নিয়ে গিয়েছিল: ফয়সালের সহযোগী

‘এই জানোয়ারদের কখনো সন্তান না হোক’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৬৯ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নারী এজিএস আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ফের সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তিনি ফেসবুকে ১৬টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে লিখেছেন—এ ধরনের বুলিংকারীদের যেন কখনো সন্তান না হয়; হলে তারা বাপ–মায়ের মতোই স্লাটশেমিং করবে।

পোস্টে মেঘলা জানান, বিগত কয়েক বছর তারকারা, রাজনীতিবিদ নারীরা এবং এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রতিনিধিরাও নিয়মিত সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। জাকসু নির্বাচনের সময় প্রতিটি প্যানেলের নারী প্রার্থীর প্রতি সংগঠিতভাবে স্লাটশেমিং হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচনের পর বিজয়ীদের হেনস্তা আরও বেড়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এ প্রবণতা আরও বাড়বে বলেও তার আশঙ্কা।

মেঘলা লিখেছেন, সাইবার বুলিং নিয়ে কথা বললেই কেউ কেউ বলেন—‘আমাদের দেশ এমনই, মেনে নিতে হবে।’ তাঁর ভাষায়, এরা ‘সর্বোচ্চ লেভেলের ফ্যাসিস্ট’; এ কথায় সাইবার বুলিংকে বৈধতা দেওয়া হয়। “মেনে নিলেই পরিপক্ব—আর প্রতিবাদ করলে আমরা নাকি বেয়াদব,”—যোগ করেন তিনি। বুলিংয়ের শিকার হওয়া নিয়ে কথা বললেও তাকে ‘ভিক্টিম সাজছে’ বলে কটাক্ষ করা হয়, এটিকে তিনি সমাজের ভয়ানক স্বভাবগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাকসুর এই জিএস জানান, তারকারা প্রতিদিন কতবার স্লাটশেমিংয়ের শিকার হন—সেই বিষয়ে যারা ক্যাম্পেইন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রতিনিধিরা ক্যাম্পেইন করলে তার চেয়েও ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেত। “একটাও দিন নেই যেদিন আমরা স্লাটশেমিংয়ের শিকার হই না।”

বাংলাদেশে নারীদের প্রতিদিনের সাইবার বুলিংয়ের কথা তুলে ধরে মেঘলা বলেন, “এত নারীর চোখের পানি আর ব্যথার প্রতিদিন যেন আল্লাহ দেয়।” তিনি বলেন, এখন আর কাউকে হেদায়েত কামনা করেন না; বরং যারা বট আইডি, ফেক আইডি বা দলীয় পরিচয়ে নারীদের হেনস্তা করে—তাদের ওপর গজব নেমে আসুক।

সাইবার বুলিংয়ে নারীরাও অংশ নেয় উল্লেখ করে তিনি জানান, সমালোচনা আর স্লাটশেমিংয়ের পার্থক্য না বুঝে অনেকেই গালিগালাজ করে। বুলিংকারীদের উদ্দেশে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, নিজের পরিবারের নারীদের মুখ কল্পনা করে দেখলে এ আচরণকে তারা ‘সমালোচনা’ বলতে পারতেন কি না। তাদের জায়গা চিড়িয়াখানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অবশেষে মেঘলা লিখেছেন, যারা নারীদের নিয়ে স্লাটশেমিং করেন, তারা কন্যাসন্তানের পিতা-মাতা হওয়ার যোগ্য নন। পোস্টের শেষে জানান, কমেন্ট বন্ধ রাখলেও ইনবক্সের গালি থামে না—এগুলো তার প্রাপ্ত স্লাটশেমিংয়ের মাত্র ২০ শতাংশ; বাকি ৮০ শতাংশ সংরক্ষণও করেননি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমা চেয়ে জাতীয় পার্টিতে ফিরেছেন মসিউর রহমান রাঙ্গা, করবেন নির্বাচন

‘এই জানোয়ারদের কখনো সন্তান না হোক’

আপডেট সময় ০৯:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নারী এজিএস আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ফের সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) তিনি ফেসবুকে ১৬টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে লিখেছেন—এ ধরনের বুলিংকারীদের যেন কখনো সন্তান না হয়; হলে তারা বাপ–মায়ের মতোই স্লাটশেমিং করবে।

পোস্টে মেঘলা জানান, বিগত কয়েক বছর তারকারা, রাজনীতিবিদ নারীরা এবং এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রতিনিধিরাও নিয়মিত সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। জাকসু নির্বাচনের সময় প্রতিটি প্যানেলের নারী প্রার্থীর প্রতি সংগঠিতভাবে স্লাটশেমিং হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নির্বাচনের পর বিজয়ীদের হেনস্তা আরও বেড়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এ প্রবণতা আরও বাড়বে বলেও তার আশঙ্কা।

মেঘলা লিখেছেন, সাইবার বুলিং নিয়ে কথা বললেই কেউ কেউ বলেন—‘আমাদের দেশ এমনই, মেনে নিতে হবে।’ তাঁর ভাষায়, এরা ‘সর্বোচ্চ লেভেলের ফ্যাসিস্ট’; এ কথায় সাইবার বুলিংকে বৈধতা দেওয়া হয়। “মেনে নিলেই পরিপক্ব—আর প্রতিবাদ করলে আমরা নাকি বেয়াদব,”—যোগ করেন তিনি। বুলিংয়ের শিকার হওয়া নিয়ে কথা বললেও তাকে ‘ভিক্টিম সাজছে’ বলে কটাক্ষ করা হয়, এটিকে তিনি সমাজের ভয়ানক স্বভাবগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাকসুর এই জিএস জানান, তারকারা প্রতিদিন কতবার স্লাটশেমিংয়ের শিকার হন—সেই বিষয়ে যারা ক্যাম্পেইন করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রতিনিধিরা ক্যাম্পেইন করলে তার চেয়েও ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেত। “একটাও দিন নেই যেদিন আমরা স্লাটশেমিংয়ের শিকার হই না।”

বাংলাদেশে নারীদের প্রতিদিনের সাইবার বুলিংয়ের কথা তুলে ধরে মেঘলা বলেন, “এত নারীর চোখের পানি আর ব্যথার প্রতিদিন যেন আল্লাহ দেয়।” তিনি বলেন, এখন আর কাউকে হেদায়েত কামনা করেন না; বরং যারা বট আইডি, ফেক আইডি বা দলীয় পরিচয়ে নারীদের হেনস্তা করে—তাদের ওপর গজব নেমে আসুক।

সাইবার বুলিংয়ে নারীরাও অংশ নেয় উল্লেখ করে তিনি জানান, সমালোচনা আর স্লাটশেমিংয়ের পার্থক্য না বুঝে অনেকেই গালিগালাজ করে। বুলিংকারীদের উদ্দেশে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, নিজের পরিবারের নারীদের মুখ কল্পনা করে দেখলে এ আচরণকে তারা ‘সমালোচনা’ বলতে পারতেন কি না। তাদের জায়গা চিড়িয়াখানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অবশেষে মেঘলা লিখেছেন, যারা নারীদের নিয়ে স্লাটশেমিং করেন, তারা কন্যাসন্তানের পিতা-মাতা হওয়ার যোগ্য নন। পোস্টের শেষে জানান, কমেন্ট বন্ধ রাখলেও ইনবক্সের গালি থামে না—এগুলো তার প্রাপ্ত স্লাটশেমিংয়ের মাত্র ২০ শতাংশ; বাকি ৮০ শতাংশ সংরক্ষণও করেননি।