ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদির মন্ত্রিসভায় এক সদস্যের পদত্যাগ ফ্যাসিস্টের দোসর চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম ‘গুলি চালিয়েও অস্বীকার’, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে ধরলেন রাহুল মিরপুরে গোলাগুলিতে যুবদল কর্মী নিহত, গুলিবিদ্ধ ২ মরদেহ উদ্ধারে গিয়ে পুলিশ সদস্য দেখলেন নিহত স্কুলছাত্র নিজেরই ছেলে পদত্যাগের পরও আজীবন পেনশনসহ রাষ্ট্রীয় নানা সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আন্দোলনরত তরুণদের সঙ্গে ইনস্ট্রাগ্রামে যুক্ত হতে মন্ত্রীদের নির্দেশনা মোদির রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রের ভাষা ‘অস্বাভাবিক’: সন্দেহ শিশির মনিরের পদত্যাগ করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রভনীত সিং সাহাবুদ্দিনের চিকিৎসা দেশেই সম্ভব: ডা. শফিক

এবার ভারত ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮৩২ বার পড়া হয়েছে

এবার গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারত ছাড়ছেন। মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই এমন কোনো দেশে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই, এমন দেশে যাওয়ার চেষ্টাও করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পরপরই তিনি কলকাতার রোজডেলে এলাকা ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছেন। তাই কয়েকদিন ধরে কলকাতায় অবস্থানকারী নিজ দলের নেতাকর্মীসহ কেউই তার সাক্ষাৎ পাননি। বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র এবং ভারতের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অবশ্য কামাল নিজেও ভারত ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতে বেশিদিন থাকা নিরাপদ মনে করছি না। এখনই আমাকে বিকল্প চিন্তা করতে হচ্ছে।’

জুলাই বিপ্লবে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালও পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের পর শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এ চিঠি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে এরই মধ্যে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ওই রায় ঘোষণার পর একটি আঞ্চলিক জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি যান বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। সফরকালে গত ১৯ নভেম্বর ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয় তার। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ওই বৈঠকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা ও কামালের প্রত্যর্পণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা ও কামালকে ফেরাতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগের মধ্যেই সামনে আসে কামালের ভারত ছাড়ার প্রচেষ্টার তথ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের সূত্র ধরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে ঢাকার তরফ থেকে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার পর বিচলিত হয়ে পড়েন তিনি। ইতোমধ্যেই তিনি তার এক বছরের পুরোনো ঠিকানা পরিবর্তন করে সে দেশেরই অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে অবস্থানকারী তার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে ফোনালাপে জানান, সেখানে অবস্থান করা আর নিরাপদ নয়। সম্প্রতি তিনি ওই ব্যক্তির (নিরাপত্তার জন্য নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক) সঙ্গে টেলিফোনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায়, ভারত সরকারের আশ্রয় দেওয়া এবং প্রত্যর্পণের বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিন মিনিটের ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডটি হাতে এসেছে।

পূর্ব পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্র টেনে ওই ব্যক্তি টেলিফোনে কামালের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চান। কামাল আপাতত দেখা করতে অসম্মতি জানিয়ে বলেন, আপাতত দেখা করতে চাচ্ছি না। কয়েকদিন পরে প্রয়োজনে আমিই ডেকে কথা বলব। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি তো আপনার বাসার সামনে চলে এসেছি। যেহেতু এসেই পড়েছি, একটু দেখা করে দু-একটি কথা বলেই চলে যাব’। এ পর্যায়ে কামাল বলেন, ‘আমি এখন ওই ঠিকানায় থাকি না। ওইখান থেকে অন্যত্র চলে এসেছি। আর ভারত তাদের দেশে আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমাদেরও এমন কোনো কাজ করা ঠিক নয়, যাতে তাদের সমস্যা হয়।’ নতুন ঠিকানার কথা গোপন রেখে ওই ব্যক্তিকে কামাল আরো বলেন, ‘আমি তো এখানেও নিরাপদ মনে করছি না। নতুন কোনো চিন্তা করতে হচ্ছে।’ নতুন চিন্তার বিষয়ে পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির মন্ত্রিসভায় এক সদস্যের পদত্যাগ

এবার ভারত ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল

আপডেট সময় ০৯:৩৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারত ছাড়ছেন। মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই এমন কোনো দেশে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই, এমন দেশে যাওয়ার চেষ্টাও করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পরপরই তিনি কলকাতার রোজডেলে এলাকা ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে গেছেন। তাই কয়েকদিন ধরে কলকাতায় অবস্থানকারী নিজ দলের নেতাকর্মীসহ কেউই তার সাক্ষাৎ পাননি। বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র এবং ভারতের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অবশ্য কামাল নিজেও ভারত ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতে বেশিদিন থাকা নিরাপদ মনে করছি না। এখনই আমাকে বিকল্প চিন্তা করতে হচ্ছে।’

জুলাই বিপ্লবে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালও পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের পর শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এ চিঠি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে বলে এরই মধ্যে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ওই রায় ঘোষণার পর একটি আঞ্চলিক জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি যান বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। সফরকালে গত ১৯ নভেম্বর ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয় তার। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ওই বৈঠকে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা ও কামালের প্রত্যর্পণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা ও কামালকে ফেরাতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগের মধ্যেই সামনে আসে কামালের ভারত ছাড়ার প্রচেষ্টার তথ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের সূত্র ধরে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে ঢাকার তরফ থেকে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার পর বিচলিত হয়ে পড়েন তিনি। ইতোমধ্যেই তিনি তার এক বছরের পুরোনো ঠিকানা পরিবর্তন করে সে দেশেরই অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে অবস্থানকারী তার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে ফোনালাপে জানান, সেখানে অবস্থান করা আর নিরাপদ নয়। সম্প্রতি তিনি ওই ব্যক্তির (নিরাপত্তার জন্য নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক) সঙ্গে টেলিফোনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায়, ভারত সরকারের আশ্রয় দেওয়া এবং প্রত্যর্পণের বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিন মিনিটের ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডটি হাতে এসেছে।

পূর্ব পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্র টেনে ওই ব্যক্তি টেলিফোনে কামালের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চান। কামাল আপাতত দেখা করতে অসম্মতি জানিয়ে বলেন, আপাতত দেখা করতে চাচ্ছি না। কয়েকদিন পরে প্রয়োজনে আমিই ডেকে কথা বলব। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি তো আপনার বাসার সামনে চলে এসেছি। যেহেতু এসেই পড়েছি, একটু দেখা করে দু-একটি কথা বলেই চলে যাব’। এ পর্যায়ে কামাল বলেন, ‘আমি এখন ওই ঠিকানায় থাকি না। ওইখান থেকে অন্যত্র চলে এসেছি। আর ভারত তাদের দেশে আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমাদেরও এমন কোনো কাজ করা ঠিক নয়, যাতে তাদের সমস্যা হয়।’ নতুন ঠিকানার কথা গোপন রেখে ওই ব্যক্তিকে কামাল আরো বলেন, ‘আমি তো এখানেও নিরাপদ মনে করছি না। নতুন কোনো চিন্তা করতে হচ্ছে।’ নতুন চিন্তার বিষয়ে পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।