ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঘরের তেলাপোকাই হতে পারে প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি ১ জুলাই থেকে মার্চেন্টদের জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক দেশের ১৪ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস শিবির হত্যার বিচার না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছেড়েদেন বিএনপি নেতা সরকারি দলের দায়িত্বহীন বক্তব্যে দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়ছে: জামায়াত আমির ইরানের পক্ষে যুদ্ধে না জড়ানোয় এরদোয়ানের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প রাজনৈতিক খুনোখুনি: দায় চাপিয়ে দায়মুক্তি চাইছে বিএনপি-জামায়াত? খামেনির শেষ বিদায়ে ইরানের আমন্ত্রণ পেয়ে ‘বিপাকে’ মোদি ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার উপকূলে ব্যাপক লুটপাট আশুরার রোজা কয়টি? আলেমদের অভিমত কী বলছে

ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকেই বিপদ! বনফুল কর্মচারীকে ৫০ হাজার জরিমানা দাবি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, ভুক্তভোগী কর্মচারী এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ মে ঈদের পরদিন বিকেলে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ক্রেতার বেশে তাজপুর বাজারের বনফুল শাখায় যান। ওই সময় দোকানের কর্মচারী আব্দুল মান্নান চকোলেট আইসক্রিম না থাকায় অন্য পণ্য দেখিয়ে দেন এবং এক পর্যায়ে তাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ‘আপা’ বলে সম্বোধনের পরই ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রশ্ন করেন, “তুমি আমাকে চিনো? আমাকে আপা ডাকছ কেন?” এরপর তিনি নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলেন এবং শাখা ব্যবস্থাপককে ডাকার নির্দেশ দেন।

এ সময় ম্যানেজার বাইরে থাকায় কর্মচারীকে কথিতভাবে জেল-জরিমানার ভয় দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে তাকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন আব্দুল মান্নান। পরে ম্যানেজার এসে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।

পরবর্তীতে ১ জুন ওই কর্মচারী জরিমানার পরিমাণ কমানোর আবেদন জানাতে ইউএনও কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, ছয় মাসের জেল ও আরও বেশি জরিমানার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে সিলেট কারখানায় বদলি করে এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ তার বেতন থেকে কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

ঘটনাটি নিয়ে বনফুল শাখার ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া বলেন, কর্মচারী বয়স্ক ও নিরক্ষর হওয়ায় ক্রেতার পরিচয় বুঝতে না পারার কারণে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, কোনো কর্মচারীকে শুধু ‘আপা’ বলার কারণে জরিমানা করা সম্ভব নয়; হয়তো অন্য কোনো অনিয়মের বিষয় ছিল।

এদিকে ইউএনও মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরের তেলাপোকাই হতে পারে প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকেই বিপদ! বনফুল কর্মচারীকে ৫০ হাজার জরিমানা দাবি

আপডেট সময় ১২:৩৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, ভুক্তভোগী কর্মচারী এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ মে ঈদের পরদিন বিকেলে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ক্রেতার বেশে তাজপুর বাজারের বনফুল শাখায় যান। ওই সময় দোকানের কর্মচারী আব্দুল মান্নান চকোলেট আইসক্রিম না থাকায় অন্য পণ্য দেখিয়ে দেন এবং এক পর্যায়ে তাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ‘আপা’ বলে সম্বোধনের পরই ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রশ্ন করেন, “তুমি আমাকে চিনো? আমাকে আপা ডাকছ কেন?” এরপর তিনি নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলেন এবং শাখা ব্যবস্থাপককে ডাকার নির্দেশ দেন।

এ সময় ম্যানেজার বাইরে থাকায় কর্মচারীকে কথিতভাবে জেল-জরিমানার ভয় দেখানো হয় এবং পরবর্তীতে তাকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন আব্দুল মান্নান। পরে ম্যানেজার এসে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়।

পরবর্তীতে ১ জুন ওই কর্মচারী জরিমানার পরিমাণ কমানোর আবেদন জানাতে ইউএনও কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, ছয় মাসের জেল ও আরও বেশি জরিমানার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে সিলেট কারখানায় বদলি করে এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ তার বেতন থেকে কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

ঘটনাটি নিয়ে বনফুল শাখার ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া বলেন, কর্মচারী বয়স্ক ও নিরক্ষর হওয়ায় ক্রেতার পরিচয় বুঝতে না পারার কারণে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, কোনো কর্মচারীকে শুধু ‘আপা’ বলার কারণে জরিমানা করা সম্ভব নয়; হয়তো অন্য কোনো অনিয়মের বিষয় ছিল।

এদিকে ইউএনও মুনমুন নাহার আশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।