ঢাকার আগারগাঁও মেট্রো রেল এলাকায় কয়েক দিন আগে এক নারীর কোলে একটি ফুটফুটে শিশুকন্যাকে দেখে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শিশুটির গায়ের রং, সোনালি চুল ও বাদামি চোখ দেখে অনেকেই ধারণা করেন—এত অভিজাত চেহারার শিশু ওই নারীর সন্তান নয়। শিশুটিকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে অনেকে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। এতে ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটদুনিয়ায় তৈরি হয় ব্যাপক তোলপাড়।
পরে জানা যায়, ওই শিশুটির নাম ইরা মনি। সে নারীরই মেয়ে এবং তারা মিরপুর ১১ নম্বরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন, যার মাসিক ভাড়া মাত্র তিন হাজার টাকা। ওই দিন ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে বাসাভাড়া জোগাড় করতে বের হয়েছিলেন। বাসাভাড়া বাকি থাকায় তাকে ঘর ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই ঘটনার পর বাড়ির মালিক ভাড়া মওকুফ করেন।
নারী জানান, তিনি সাত বছর ধরে ওই এলাকায় থাকেন এবং মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কঠিন সংগ্রামের মধ্যেই চলছে তার জীবন। তার স্বামী মেয়েটির জন্মের আগেই চলে যান এবং ফিরে এসেও স্থায়ী হননি।
তিনি বলেন, “আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে বের হতে পারি না। কেউ কেউ বলে—এই বাচ্চা আমার না। কেউ যেন কেড়ে না নেয়, সেই ভয় সব সময় তাড়া করে।”
এই ঘটনাটি আমাদের সমাজে অভিজাত রূপ-গুণ বা বাহ্যিক চেহারা দেখে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রবণতা ও গরিব মানুষের প্রতি সন্দেহপ্রবণ মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এক মায়ের অসহায় বাস্তবতা ও তার সন্তানের প্রতি ভালোবাসার গল্প আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই সঙ্গে সমালোচনা ও সহানুভূতির জন্ম দিয়েছে।

