“এই শহরে পাখিদের ঘুম ভাঙে বুলির শব্দে / এই শহর নেশায় বোধ বারুদের গন্ধে।”

এই পঙ্‌ক্তিগুলো শুধু কবিতার লাইন নয়, একটি আন্দোলনের অঘোষিত ঘোষণাপত্র। মাত্র দুদিন পর, ৩১ জুলাই, তার নিথর দেহ মেলে মোহাম্মদপুরের একটি ভাড়াবাসায়। মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও নিশ্চিত ছিল একটাই—ঋষিকাব্য এখন প্রতিরোধের প্রতীক

৫ জুন ২০২৪—বাংলাদেশ হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায়ে ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। রায়ের পরে হঠাৎ যেন জেগে ওঠে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। "বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন" ব্যানারে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। তবে তা শুধু একটি কোটার ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকে না।

এটা হয়ে ওঠে আধুনিক বাংলাদেশের সামাজিক বৈষম্য, পেশাভিত্তিক শ্রেণীহীনতা এবং প্রজন্মের মর্যাদার লড়াই।

১৪ জুলাই ২০২৪, শেখ হাসিনা এক বিতর্কিত মন্তব্যে বলেন— “মুক্তিযোদ্ধা সন্তান-নাতিপুতিরা কেউ মেধাবী না? যত রাজাকার বাচ্চারা নাতিপুতি হল মেধাবী, তাই না?”

এই বক্তব্যের পর আন্দোলন রূপ নেয় প্রতিরোধে। ঘোষণা আসে: “জুলাই শেষ হবে না ততক্ষণ, যতক্ষণ না শেখ হাসিনার পতন ঘটে।”

এদিন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন।
আন্দোলন বিজয়ে রূপ নেয়।

এই বিদ্রোহ কেবল কোটা সংস্কারের ছিল না। এটি ছিল প্রজন্মের আত্মবিসর্জনের প্রতিশ্রুতি, সমতার স্বপ্ন, মর্যাদার দাবি, ও গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম।

আবু সাঈদ মুগ্ধরা বলেছিলেন: “জুলাই শেষ হবে না ততক্ষণ, যতক্ষণ পর্যন্ত না দিতে হয় নতুন সূর্য।”

৩৬ জুলাই সেই সূর্যের নাম হয়ে ওঠে—নতুন বাংলাদেশ।

সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন লেখেন: “অনেক জীবনের বিনিময়ে একটি জুলাই। ব্যর্থ হতে দিয়েন না।”