চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন আয়োজন। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এটি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় জানাজায় পরিণত হতে পারে।
শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তেহরান, কোম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা ঘুরে আগামী বৃহস্পতিবার তার জন্মস্থান মাশহাদে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।
এদিকে খামেনির হত্যাকাণ্ডের চার মাস পর প্রথমবারের মতো এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার তেহরানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের’ নিন্দা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।
জানাজাকে ঘিরে তেহরানে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে হাজারো নিরাপত্তাকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মী। পাশাপাশি শতাধিক দেশের প্রতিনিধি এবং হাজারো দেশি-বিদেশি সাংবাদিক এই আয়োজন কভার করবেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক বার্তা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























