ঢাকা , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী: ডিএসসিসি প্রশাসক নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স: রুমিন ফারহানা ছয় দফা না মানলে সরকার পতনে এক দফা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কানাডায় ২ শিশুকে ৯ মাস যৌন নিপীড়ন, প্রবাসী আর্ট শিক্ষক গ্রেপ্তার জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপি নায়ক হতে পারতো, কিন্তু ভিলেনে পরিণত হয়েছে: তাজুল ইসলাম জাতিসংঘে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফিলিস্তিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের ৫৫ লাশ উদ্ধার ‘আমি চলে গেলে কেউ আমার নাম দেবে না’, তাই সবকিছুতে নিজের নাম দিচ্ছেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আকস্মিক হামলা চালাতে পারে ইরান

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হ/ত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬১ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে লোক দিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সালেহা বেগমকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আবু বকর। পরে তাদের বিচ্ছেদ হলেও জমি কেনার জন্য নেওয়া ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি ভাড়াটে খুনি দিয়ে সালেহাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে একটি পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে তদন্তের একপর্যায়ে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং দাবি করেন, আবু বকর ছিদ্দিকের নির্দেশেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সেলিম আগে থেকেই কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

এদিকে, নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অর্থের লোভে তাদের মাকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক। পরে টাকার বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করানো হয়। তারা এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে আবু বকর ছিদ্দিক বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটের জন্য বিগত সরকার দায়ী: ডিএসসিসি প্রশাসক

ভাড়াটে লোক দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হ/ত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

আপডেট সময় ১১:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক স্ত্রীকে ভাড়াটে লোক দিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াত নেতা আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৩ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবু বকর ছিদ্দিক কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন জামায়াতের রুকন এবং চর সামছুদ্দিন গ্রামের আলী উল্যা হাওলাদারের ছেলে।

আদালত ও মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সালেহা বেগমকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আবু বকর। পরে তাদের বিচ্ছেদ হলেও জমি কেনার জন্য নেওয়া ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি ভাড়াটে খুনি দিয়ে সালেহাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন দিবাগত রাতে মো. সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরদিন কমলনগরের মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে একটি পরিত্যক্ত ভিটা থেকে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে তদন্তের একপর্যায়ে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং দাবি করেন, আবু বকর ছিদ্দিকের নির্দেশেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ওই জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ সেলিম ও আবু বকর ছিদ্দিককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সেলিম আগে থেকেই কারাগারে থাকলেও আবু বকর পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামি আবু বকর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

এদিকে, নিহত সালেহা বেগমের ছেলে শরীফ উদ্দিন ও মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অর্থের লোভে তাদের মাকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক। পরে টাকার বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করানো হয়। তারা এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে আবু বকর ছিদ্দিক বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।