রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, কয়েকজন সদস্য ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ এনে তারা দ্রুত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ, প্রশাসক নিয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মান্ডইল এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও কাজের অনিয়মের প্রতিবাদে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেন শতাধিক নারী-পুরুষ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের বিশেষ বরাদ্দে প্রায় দেড় কিলোমিটার খাল খননের জন্য ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাদের দাবি, মাত্র ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার নামমাত্র কাজ করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান টিটু পরিষদের কয়েকজন সদস্য ও কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ড্রেন, কালভার্ট, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ কাজ না করেই উত্তোলন করছেন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও অনিয়ম এবং সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলেন তারা। বক্তাদের দাবি, এসব অনিয়মের কারণে সরকারি উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যাদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তাদের কেউ কেউ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। তাদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু না হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান টিটু। তিনি বলেন, খাল খনন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, তিনি মাত্র দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। এবার তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পগুলোর আর্থিক নিরীক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ভর করবে প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। এখন সেই তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোদাগাড়ীবাসী।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















