ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, সতর্ক র‍্যাব-পুলিশ বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু পুরুষের শাস্তি, আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের রুল জারি ইরানের প্রেসিডেন্টের ‘পদত্যাগের’ খবর নিয়ে যা জানা গেল ইরানের প্রেসিডেন্টের ‘পদত্যাগের’ খবর নিয়ে যা জানা গেল এবার চার স্ত্রী থাকার পরও অন্য নারীর ঘরে জামায়াত কর্মী খাওয়ার অনুপযোগী, ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ মোজতবা খামেনিকে খুঁজতে হিমশিম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের গোয়েন্দারা ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইরানকে ‘শায়েস্তা’ করতে নতুন কৌশলে ট্রাম্প প্রশাসন বিজয়ের সঙ্গে তৃষাকে জড়িয়ে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য, বিরোধীদলীয় নেতা গ্রেপ্তার

ইসরায়েল-সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশাল অস্ত্র চুক্তির গোপন নথি ফাঁস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির পর ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফাঁস হওয়া একাধিক গোপন নথিতে উঠে এসেছে, আমিরাতকে শত কোটি ডলারের ড্রোন, নজরদারি প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হাআরেৎজ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আবুধাবিতে হুতি বাহিনীর হামলার পর আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে। এরপর জরুরি ভিত্তিতে এলবিটের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে ১৮০ মিলিয়ন ডলারে ছয়টি হার্মিস-৯০০ ড্রোন ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে আমিরাত ৪৫টি ড্রোন ও ১৫টি পূর্ণাঙ্গ নজরদারি ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ দেখায়। সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার

ফাঁস হওয়া নথিতে আরও দেখা যায়, সংকেত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সাইবার যুদ্ধ এবং ইলেকট্রনিক নজরদারির সক্ষমতা বাড়াতে চারটি বিশেষায়িত বিমান কেনার বিষয়েও আগ্রহী ছিল আমিরাত। পাশাপাশি ‘জাসমিন-৩’ নামে একটি গোপন প্রকল্পেরও উল্লেখ রয়েছে, যা ড্রোন বা গাইডেড বোমার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

এছাড়া বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের আগেই হার্মিস-৬৫০ ড্রোন আমিরাতকে প্রস্তাব করা হয়েছিল। এমনকি এসব প্রযুক্তির কিছু অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, এসব সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানে এলবিট সিস্টেমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ সার্ভারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত জিমেইল ব্যবহার করেছিলেন। পরে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি হ্যাকার গ্রুপ সেই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ইন্টারনেটে প্রকাশ করে।

অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল গোপনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

এছাড়া ২০২২ সালে আমিরাতের জ্বালানিবাহী বিমানের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সম্প্রতি এলবিটের ঘোষিত ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এক গোপন আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্রেতাও সংযুক্ত আরব আমিরাত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, সতর্ক র‍্যাব-পুলিশ

ইসরায়েল-সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশাল অস্ত্র চুক্তির গোপন নথি ফাঁস

আপডেট সময় ০৩:৪১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির পর ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফাঁস হওয়া একাধিক গোপন নথিতে উঠে এসেছে, আমিরাতকে শত কোটি ডলারের ড্রোন, নজরদারি প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হাআরেৎজ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আবুধাবিতে হুতি বাহিনীর হামলার পর আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে। এরপর জরুরি ভিত্তিতে এলবিটের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে ১৮০ মিলিয়ন ডলারে ছয়টি হার্মিস-৯০০ ড্রোন ও গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে আমিরাত ৪৫টি ড্রোন ও ১৫টি পূর্ণাঙ্গ নজরদারি ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ দেখায়। সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার

ফাঁস হওয়া নথিতে আরও দেখা যায়, সংকেত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সাইবার যুদ্ধ এবং ইলেকট্রনিক নজরদারির সক্ষমতা বাড়াতে চারটি বিশেষায়িত বিমান কেনার বিষয়েও আগ্রহী ছিল আমিরাত। পাশাপাশি ‘জাসমিন-৩’ নামে একটি গোপন প্রকল্পেরও উল্লেখ রয়েছে, যা ড্রোন বা গাইডেড বোমার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

এছাড়া বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের আগেই হার্মিস-৬৫০ ড্রোন আমিরাতকে প্রস্তাব করা হয়েছিল। এমনকি এসব প্রযুক্তির কিছু অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, এসব সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানে এলবিট সিস্টেমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ সার্ভারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত জিমেইল ব্যবহার করেছিলেন। পরে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি হ্যাকার গ্রুপ সেই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ইন্টারনেটে প্রকাশ করে।

অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল গোপনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

এছাড়া ২০২২ সালে আমিরাতের জ্বালানিবাহী বিমানের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সম্প্রতি এলবিটের ঘোষিত ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এক গোপন আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্রেতাও সংযুক্ত আরব আমিরাত বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।